ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীকে কোপানো শুরু, ছিনিয়ে নেয় পাঁচ লাখ টাকা এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় বিপদ ব্ল্যাক কার্বন গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, আগুন ও উত্তেজনার ছয় ঘণ্টা শিশুর কখন টয়লেট ব্যবহার শুরু করা উচিত ভৌতিক নয়, হ্যালোউইনে তারকাদের সাজে নস্টালজিয়া সবাইকে এক কক্ষে নিয়ে ডাকাতেরা বলে, ‘চিৎকার করলে বোম মেরে উড়িয়ে দেব’ আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরিতে অংশ নিয়েছে বাবুডাইং কাব স্কাউট দল খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের বদদোয়া: পরিণতি কী

রাজধানীর শাহবাগের মেস থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর শাহবাগ এলাকার হাবিবুল্লাহ রোডের একটি মেস থেকে আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামে এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সদ্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছিলেন।

সোমবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তার বন্ধু ও রুমমেট তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত জিসানের বন্ধু ও রুমমেট দীপ্ত সিংহ জানান, তারা একসঙ্গে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন এবং গত বছর একই কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেন। এরপর প্রায় তিন মাস আগে জিসান পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর মেডিসিন বিভাগে চাকরি নেন। তারা দুজন শাহবাগের হাবিবুল্লাহ রোডের একটি মেসে একসঙ্গে থাকতেন। দীপ্ত নিজেও বর্তমানে একটি ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সকালে বের হওয়ার সময় জিসানকে স্বাভাবিক অবস্থাতেই দেখেছিলেন। দুপুর একটার দিকে জিসানের বড় ভাই জাহিদ হাসান ফোন করে জানান যে, জিসান ফোন ধরছে না এবং বিষয়টি দেখে দিতে বলেন। পরে বাসায় গিয়ে জিসানকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিসানের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন বলেও জানান দীপ্ত।

মৃত জিসানের বড় ভাই জাহিদ হাসান জানান, তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। তাদের বাবার নাম আহসান হাবিব। দুই ভাইয়ের মধ্যে জিসান ছোট ছিলেন। গত বছর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করে তিন মাস আগে ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি শুরু করেন এবং সেখানে নিয়মিত রোগী দেখতেন।

তিনি আরও বলেন, জিসান পরিবারের সবার খুব আদরের ছিল। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার তার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। সোমবার সকালেও তার সঙ্গে কথা হয়। কিন্তু দুপুরে অনেকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বন্ধু দীপ্তকে বিষয়টি জানালে তিনি গিয়ে জিসানকে অচেতন অবস্থায় পান এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এসে জানতে পারেন জিসান আর বেঁচে নেই। তার উচ্চ রক্তচাপ ছিল এবং নিয়মিত ওষুধ খেতেন। কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয় বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

রাজধানীর শাহবাগের মেস থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ এলাকার হাবিবুল্লাহ রোডের একটি মেস থেকে আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামে এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সদ্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছিলেন।

সোমবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে তার বন্ধু ও রুমমেট তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত জিসানের বন্ধু ও রুমমেট দীপ্ত সিংহ জানান, তারা একসঙ্গে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন এবং গত বছর একই কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেন। এরপর প্রায় তিন মাস আগে জিসান পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর মেডিসিন বিভাগে চাকরি নেন। তারা দুজন শাহবাগের হাবিবুল্লাহ রোডের একটি মেসে একসঙ্গে থাকতেন। দীপ্ত নিজেও বর্তমানে একটি ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সকালে বের হওয়ার সময় জিসানকে স্বাভাবিক অবস্থাতেই দেখেছিলেন। দুপুর একটার দিকে জিসানের বড় ভাই জাহিদ হাসান ফোন করে জানান যে, জিসান ফোন ধরছে না এবং বিষয়টি দেখে দিতে বলেন। পরে বাসায় গিয়ে জিসানকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিসানের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন বলেও জানান দীপ্ত।

মৃত জিসানের বড় ভাই জাহিদ হাসান জানান, তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। তাদের বাবার নাম আহসান হাবিব। দুই ভাইয়ের মধ্যে জিসান ছোট ছিলেন। গত বছর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করে তিন মাস আগে ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি শুরু করেন এবং সেখানে নিয়মিত রোগী দেখতেন।

তিনি আরও বলেন, জিসান পরিবারের সবার খুব আদরের ছিল। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার তার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। সোমবার সকালেও তার সঙ্গে কথা হয়। কিন্তু দুপুরে অনেকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বন্ধু দীপ্তকে বিষয়টি জানালে তিনি গিয়ে জিসানকে অচেতন অবস্থায় পান এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এসে জানতে পারেন জিসান আর বেঁচে নেই। তার উচ্চ রক্তচাপ ছিল এবং নিয়মিত ওষুধ খেতেন। কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয় বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।