ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারীতে ৪টি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ের পর ভিপি আয়নুল হকের দোয়া ও শুভেচ্ছা বার্তা ডোমার–ডিমলায় বৈষম্যহীন উন্নয়নের অঙ্গীকার: নবনির্বাচিত এম পি আব্দুস সাত্তার চট্টগ্রাম ১৫ এর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ৪৫হাজার ৩৬ ভোটে এগিয়ে সকাল ৭ টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ঘোষণায় কোন দল কত আসন পেয়েছেন  গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম বিজয়ী গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মতো তিন আসনে ধানের শীষের জয় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আয়নুল হক  গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হলেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী

শীতের ছোঁয়ায় চান্দার বিলে পাখির কলরব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের আগমনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে দূর-দূরান্ত থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে বিলপাড়ের চারপাশ। জল, আকাশ আর নীরবতার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হচ্ছে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

প্রকৃতিবিদদের মতে, নিজ দেশে তীব্র শীত, খাদ্য সংকট ও অনুকূল পরিবেশের অভাব দেখা দিলে পাখিরা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নিরাপদ অঞ্চলের খোঁজে পাড়ি জমায়। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিবছরই পরিযায়ী ও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা এসব পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের বিনোদন ও আনন্দেরও বড় উৎস হয়ে ওঠে।

শীত মৌসুমজুড়ে চান্দার বিলে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়লেও স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

সমাজসেবী আবির আহম্মেদ মিজু বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পাখির প্রতি অমানবিক আচরণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। একসময় মাঠে-ঘাটে, ক্ষেতে-খামারে যেসব পাখির সরব উপস্থিতি ছিল, এখন তাদের অনেককেই আর দেখা যায় না।

গ্রামের আনাচে-কানাচে একসময় দোয়েল, টুনটুনি, শালিক, ঘুঘু, বাবুই, কোকিল, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, চিল কিংবা প্যাঁচার কোলাহল শোনা যেত। কিন্তু নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিথি পাখিরা সাধারণত নিরিবিলি ও নিরাপদ এলাকা বেছে নেয়। কিন্তু খাদ্য সংকট, পরিবেশ দূষণ ও শিকারিদের উৎপাতের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের আগমন কমে গেছে। পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে আইন প্রয়োগ এখনও দুর্বল।

প্রতি বছর তীব্র শীত ও খাদ্যের সন্ধানে হিমালয়, সাইবেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন বরফাচ্ছন্ন অঞ্চল থেকে এসব পাখি বাংলাদেশে আসে। এ সময় চান্দার বিলে বালি হাঁস, কুস্তি হাঁস, জিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, নীলশির, ধূসর বক, জলময়ূর, ডুবুরি, পানকৌড়ি, গঙ্গা কবুতর, দলপিপি ও রাজসরালিসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মেলে।

অতিথি পাখিরা যেভাবেই আসুক, তারা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও বন উজাড় অব্যাহত থাকলে একদিন শীতের চান্দার বিল হারিয়ে ফেলতে পারে তার চিরচেনা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ। তাই পরিযায়ী ও অতিথি পাখি রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল আচরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শীতের ছোঁয়ায় চান্দার বিলে পাখির কলরব

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের আগমনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে দূর-দূরান্ত থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে বিলপাড়ের চারপাশ। জল, আকাশ আর নীরবতার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হচ্ছে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

প্রকৃতিবিদদের মতে, নিজ দেশে তীব্র শীত, খাদ্য সংকট ও অনুকূল পরিবেশের অভাব দেখা দিলে পাখিরা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নিরাপদ অঞ্চলের খোঁজে পাড়ি জমায়। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিবছরই পরিযায়ী ও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা এসব পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের বিনোদন ও আনন্দেরও বড় উৎস হয়ে ওঠে।

শীত মৌসুমজুড়ে চান্দার বিলে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়লেও স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

সমাজসেবী আবির আহম্মেদ মিজু বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পাখির প্রতি অমানবিক আচরণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। একসময় মাঠে-ঘাটে, ক্ষেতে-খামারে যেসব পাখির সরব উপস্থিতি ছিল, এখন তাদের অনেককেই আর দেখা যায় না।

গ্রামের আনাচে-কানাচে একসময় দোয়েল, টুনটুনি, শালিক, ঘুঘু, বাবুই, কোকিল, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, চিল কিংবা প্যাঁচার কোলাহল শোনা যেত। কিন্তু নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিথি পাখিরা সাধারণত নিরিবিলি ও নিরাপদ এলাকা বেছে নেয়। কিন্তু খাদ্য সংকট, পরিবেশ দূষণ ও শিকারিদের উৎপাতের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের আগমন কমে গেছে। পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে আইন প্রয়োগ এখনও দুর্বল।

প্রতি বছর তীব্র শীত ও খাদ্যের সন্ধানে হিমালয়, সাইবেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন বরফাচ্ছন্ন অঞ্চল থেকে এসব পাখি বাংলাদেশে আসে। এ সময় চান্দার বিলে বালি হাঁস, কুস্তি হাঁস, জিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, নীলশির, ধূসর বক, জলময়ূর, ডুবুরি, পানকৌড়ি, গঙ্গা কবুতর, দলপিপি ও রাজসরালিসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মেলে।

অতিথি পাখিরা যেভাবেই আসুক, তারা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও বন উজাড় অব্যাহত থাকলে একদিন শীতের চান্দার বিল হারিয়ে ফেলতে পারে তার চিরচেনা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ। তাই পরিযায়ী ও অতিথি পাখি রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল আচরণ।