ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৫ জনের চাকরি, বেতন নতুন পে স্কেলে এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়: পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার ও সম্মিলিত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হাতিয়ায় স্কুলশিক্ষিকার বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৫০ লাখ টাকা ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ইউপি সদস্য আমিনুল ঢাকায় সোনার ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণমাধ্যম’ বিষয়ে পড়তে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম কেন মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ, প্রস্তুত জলকামান–দাঙ্গা দমনের যান পরি, সিংহ, হরিণের নকশায় সাজানো জমিদারদের পালঙ্ক, লম্বা ১২৩ ইঞ্চি মিশিগানে সিনেট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের গরম পানিতেও কেন গলছে না এই আইসক্রিম

মাইরের উপ্রে ওষুধ নাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘আচ্ছা, আচ্ছা আবার কী? যেইটা বলছি, সেইটা করেন। আমার এই রিলটা দেখছেন? এই যে এইটাতে আমি বলছি, কিসে আছে কোন ভিটামিন। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন কিসে… মাইরে! সাড়ে তিন মিলিয়ন, ভাই। পাবলিক আমারে খায়, ভাই। বুঝছেন না?’

.

দুই দিনের নায়ক, কিন্তু ভাবে ষোলো আনার চেয়ে বেশি; বলা যায় আঠারো আনা। ডিরেক্টরের মাথা এর মধ্যেই খারাপ করে ফেলেছে।

প্রথম দিন লোকেশনে এসেই ঘোষণা দিয়েছে, লোকেশন তার পছন্দ হয়নি। এমন লোকেশনে শুটিং করা যায় না।

এডি রমজানের একটু ধড়ফড়ানি ওঠে। মেকআপ রুম থেকে লাফিয়ে সে ডিরেক্টরের কাছে, ‘বস! হিরোর তো লোকেশন পছন্দ না!’

ডিরেক্টরের মুখ খারাপ। থুতুর আগে গালি ছোটে। পাশে বয়স্ক আর্টিস্ট বসা। কোনোমতে চ-বর্গ সামলে বলে, ‘হে লোকেশনের বোঝে কী! রিয়েল লোকেশনে শুট করছে কোনো দিন? হের দৌড় তো উত্তরা আর দিয়াবাড়ি।’

‘হিরো বলছে, কাল থেকে এই অজগ্রামে সে আসবে না। তার গাড়ি ঢুকাতে ঝামেলা হয়। বাতাসে নাকি ইয়ের গন্ধ পায় খালি!’

‘ইয়ে! তার ভিতরে আমি একেবারে…’

সিনিয়র আর্টিস্ট কেশে ওঠেন। ডিরেক্টরও দম নেয়। চেয়ার ছেড়ে ভুঁড়িটা দুলিয়ে এগিয়ে যায় মেকআপ রুমের দিকে।

.

‘মাইরে ভিটামিন আছে কি না, জানি না, কিন্তু মাইরের উপ্রে ওষুধ নাই!’

.

২

হিরো সাম্পান খানের হেয়ার করা হচ্ছে। এর চুল করতে হিরোইনের চেয়ে বেশি সময় লাগে। ডিরেক্টর ঢুকতেই একবার তাকিয়ে দেখে, হিরোর দৃষ্টি মোবাইলে। রিলে রিলে হাসি। তার করা রিলগুলোয় লাখে লাখে লাইক। ডিরেক্টরের মুখে তেলটে হাসি, মুখে তোয়াজ, ‘তোমার নাকি লোকেশন পছন্দ হয় নাই?’

‘পছন্দ হওয়ার মতো আছেটা কী এইখানে? জার্নি করতে করতে মাজায় ব্যথা!’

‘গল্পের জন্য এই লোকেশন পারফেক্ট!’

‘গল্প আর কে দেখে, রাজু ভাই? পাবলিক দেখে আমারে। কিন্তু এইখানে আমারে দেখলে বাতাসে যেইটার গন্ধ, সেইটা ছুড়ে মারবে আমার দিকে। শুটিং প্যাকআপ করেন। ঢাকার আশপাশে লোকেশন ঠিক করেন। তারপর ডেট নিয়েন।’

‘আচ্ছা, আচ্ছা।’

‘আচ্ছা, আচ্ছা আবার কী? যেইটা বলছি, সেইটা করেন। আমার এই রিলটা দেখছেন? এই যে এইটাতে আমি বলছি, কিসে আছে কোন ভিটামিন। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন কিসে… মাইরে! সাড়ে তিন মিলিয়ন, ভাই। পাবলিক আমারে খায়, ভাই। বুঝছেন না?’

তিনবারের প্রবল চেষ্টায় ডিরেক্টর মুখের লাগাম টানে। সুড়ুত করে মুখের থুতু আর বুকের রাগ গিলে খেয়ে আবারও দাঁত মেলে দেয়, ‘তুমারে খাবে না তো কারে খাবে? তুমি ছাড়া হিরো আর আছে কে?’

‘তেল দিতেছেন নাকি? লাভ নাই। এইখানে আর আসব না আমি!’

‘ঠিক আছে। আজকে তাইলে শুধু একটা সিন করে দাও। ওইটা করলেই প্যাকআপ। এরপর নতুন লোকেশন।’

‘ঠিক তো?’

‘অবশ্যই ঠিক। তুমি যা বলবা, সেটে তা–ই হবে!’

.

৩

ক্যামেরা, লাইট রেডি। আর্টিস্টও রেডি। এই গ্রামেরই আর্টিস্ট। একসময় যাত্রা করেছে। এখন সবজি ফলিয়ে লাখপতি। কিন্তু অভিনয়ের পোকা থেকে গেছে মাথার মধ্যে। ডিরেক্টর যা বলবে, তা–ই করবে। ডিরেক্টর বলেও দিয়েছে কী করতে হবে!

হিরো চলে আসে এরই মধ্যে, ‘সিন কী, রাজু ভাই?’

‘তুমি ফ্রেম–ইন করবা। এই এক্সট্রা আর্টিস্ট একটা ডায়লগ দিবে, “তুমি রহিমুদ্দির পোলা না? অ্যাদ্দিন পরে আসলা গ্রামে!” তুমি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়া চলে যাবা।’

হিরো নিজেকে আরেকবার আয়নায় দেখে নেয়। তার চুল আসল না। এটাকে সব সময় ঠিকঠাক রাখতে হয়।

ডিরেক্টর আওয়াজ দেয়, ‘রোল, ক্যামেরা অ্যান্ড অ্যাকশন…’

এক্সট্রা আর্টিস্ট ফ্রেমে ঢোকে দাঁতন করতে করতে। হিরো ইন করে। এক্সট্রা আর্টিস্ট বলে, ‘তুমি রহিমুদ্দির পোলা না? অ্যাদ্দিন পরে আসলা গ্রামে!’ হিরো তাচ্ছিল্যের সাথে তাকাতেই সেকেন্ডের মধ্যে এক্সট্রা ফলস লুক দেয় ডিরেক্টরের দিকে। ডিরেক্টর ছোট্ট করে ইশারা করতেই থপাস করে আওয়াজ হয়। গ্রামছাড়া এক চড় দিয়ে বসেছে এক্সট্রা। হিরোর গালে। হিরো ছিটকে নিচে পড়ে গেছে। এক্সট্রা এবার ক্যামেরায় তাকিয়ে ডায়লগ দেয়, ‘মাইরে ভিটামিন আছে কি না, জানি না, কিন্তু মাইরের উপ্রে ওষুধ নাই!’

ডিরেক্টর সারা দিনের জমানো থুতু থু করে ফেলে। চড়ের চোটে হিরোর চুল ছিটকে পড়েছে। টাকমাথার হিরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে নিজের দাঁত ধরে। আশঙ্কাজনকভাবে দুইটা দাঁত নড়ছে। যেকোনো সময় খুলে আসতে পারে।

ডিরেক্টর বলে ওঠে, ‘প্যাকআপ। হিরোকে লোকেশন থেকে বাইর করে হাসপাতালে নে!’

.কাকফাঁকা এক সকালে!.উগান্ডার হুইপের ফেসবুক প্রোফাইল.আপনি কত বড় মিথ্যাবাদী?.বেরেক কাম করে না!.সিনেপ্লেক্সে একদিন .সড়কপথে বিমানের ছোঁয়া .আরও যা যা ফাঁস হতে পারে.Breaking Good

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

মাইরের উপ্রে ওষুধ নাই

আপডেট সময় : ১০:১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

‘আচ্ছা, আচ্ছা আবার কী? যেইটা বলছি, সেইটা করেন। আমার এই রিলটা দেখছেন? এই যে এইটাতে আমি বলছি, কিসে আছে কোন ভিটামিন। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন কিসে… মাইরে! সাড়ে তিন মিলিয়ন, ভাই। পাবলিক আমারে খায়, ভাই। বুঝছেন না?’

.

দুই দিনের নায়ক, কিন্তু ভাবে ষোলো আনার চেয়ে বেশি; বলা যায় আঠারো আনা। ডিরেক্টরের মাথা এর মধ্যেই খারাপ করে ফেলেছে।

প্রথম দিন লোকেশনে এসেই ঘোষণা দিয়েছে, লোকেশন তার পছন্দ হয়নি। এমন লোকেশনে শুটিং করা যায় না।

এডি রমজানের একটু ধড়ফড়ানি ওঠে। মেকআপ রুম থেকে লাফিয়ে সে ডিরেক্টরের কাছে, ‘বস! হিরোর তো লোকেশন পছন্দ না!’

ডিরেক্টরের মুখ খারাপ। থুতুর আগে গালি ছোটে। পাশে বয়স্ক আর্টিস্ট বসা। কোনোমতে চ-বর্গ সামলে বলে, ‘হে লোকেশনের বোঝে কী! রিয়েল লোকেশনে শুট করছে কোনো দিন? হের দৌড় তো উত্তরা আর দিয়াবাড়ি।’

‘হিরো বলছে, কাল থেকে এই অজগ্রামে সে আসবে না। তার গাড়ি ঢুকাতে ঝামেলা হয়। বাতাসে নাকি ইয়ের গন্ধ পায় খালি!’

‘ইয়ে! তার ভিতরে আমি একেবারে…’

সিনিয়র আর্টিস্ট কেশে ওঠেন। ডিরেক্টরও দম নেয়। চেয়ার ছেড়ে ভুঁড়িটা দুলিয়ে এগিয়ে যায় মেকআপ রুমের দিকে।

.

‘মাইরে ভিটামিন আছে কি না, জানি না, কিন্তু মাইরের উপ্রে ওষুধ নাই!’

.

২

হিরো সাম্পান খানের হেয়ার করা হচ্ছে। এর চুল করতে হিরোইনের চেয়ে বেশি সময় লাগে। ডিরেক্টর ঢুকতেই একবার তাকিয়ে দেখে, হিরোর দৃষ্টি মোবাইলে। রিলে রিলে হাসি। তার করা রিলগুলোয় লাখে লাখে লাইক। ডিরেক্টরের মুখে তেলটে হাসি, মুখে তোয়াজ, ‘তোমার নাকি লোকেশন পছন্দ হয় নাই?’

‘পছন্দ হওয়ার মতো আছেটা কী এইখানে? জার্নি করতে করতে মাজায় ব্যথা!’

‘গল্পের জন্য এই লোকেশন পারফেক্ট!’

‘গল্প আর কে দেখে, রাজু ভাই? পাবলিক দেখে আমারে। কিন্তু এইখানে আমারে দেখলে বাতাসে যেইটার গন্ধ, সেইটা ছুড়ে মারবে আমার দিকে। শুটিং প্যাকআপ করেন। ঢাকার আশপাশে লোকেশন ঠিক করেন। তারপর ডেট নিয়েন।’

‘আচ্ছা, আচ্ছা।’

‘আচ্ছা, আচ্ছা আবার কী? যেইটা বলছি, সেইটা করেন। আমার এই রিলটা দেখছেন? এই যে এইটাতে আমি বলছি, কিসে আছে কোন ভিটামিন। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন কিসে… মাইরে! সাড়ে তিন মিলিয়ন, ভাই। পাবলিক আমারে খায়, ভাই। বুঝছেন না?’

তিনবারের প্রবল চেষ্টায় ডিরেক্টর মুখের লাগাম টানে। সুড়ুত করে মুখের থুতু আর বুকের রাগ গিলে খেয়ে আবারও দাঁত মেলে দেয়, ‘তুমারে খাবে না তো কারে খাবে? তুমি ছাড়া হিরো আর আছে কে?’

‘তেল দিতেছেন নাকি? লাভ নাই। এইখানে আর আসব না আমি!’

‘ঠিক আছে। আজকে তাইলে শুধু একটা সিন করে দাও। ওইটা করলেই প্যাকআপ। এরপর নতুন লোকেশন।’

‘ঠিক তো?’

‘অবশ্যই ঠিক। তুমি যা বলবা, সেটে তা–ই হবে!’

.

৩

ক্যামেরা, লাইট রেডি। আর্টিস্টও রেডি। এই গ্রামেরই আর্টিস্ট। একসময় যাত্রা করেছে। এখন সবজি ফলিয়ে লাখপতি। কিন্তু অভিনয়ের পোকা থেকে গেছে মাথার মধ্যে। ডিরেক্টর যা বলবে, তা–ই করবে। ডিরেক্টর বলেও দিয়েছে কী করতে হবে!

হিরো চলে আসে এরই মধ্যে, ‘সিন কী, রাজু ভাই?’

‘তুমি ফ্রেম–ইন করবা। এই এক্সট্রা আর্টিস্ট একটা ডায়লগ দিবে, “তুমি রহিমুদ্দির পোলা না? অ্যাদ্দিন পরে আসলা গ্রামে!” তুমি তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়া চলে যাবা।’

হিরো নিজেকে আরেকবার আয়নায় দেখে নেয়। তার চুল আসল না। এটাকে সব সময় ঠিকঠাক রাখতে হয়।

ডিরেক্টর আওয়াজ দেয়, ‘রোল, ক্যামেরা অ্যান্ড অ্যাকশন…’

এক্সট্রা আর্টিস্ট ফ্রেমে ঢোকে দাঁতন করতে করতে। হিরো ইন করে। এক্সট্রা আর্টিস্ট বলে, ‘তুমি রহিমুদ্দির পোলা না? অ্যাদ্দিন পরে আসলা গ্রামে!’ হিরো তাচ্ছিল্যের সাথে তাকাতেই সেকেন্ডের মধ্যে এক্সট্রা ফলস লুক দেয় ডিরেক্টরের দিকে। ডিরেক্টর ছোট্ট করে ইশারা করতেই থপাস করে আওয়াজ হয়। গ্রামছাড়া এক চড় দিয়ে বসেছে এক্সট্রা। হিরোর গালে। হিরো ছিটকে নিচে পড়ে গেছে। এক্সট্রা এবার ক্যামেরায় তাকিয়ে ডায়লগ দেয়, ‘মাইরে ভিটামিন আছে কি না, জানি না, কিন্তু মাইরের উপ্রে ওষুধ নাই!’

ডিরেক্টর সারা দিনের জমানো থুতু থু করে ফেলে। চড়ের চোটে হিরোর চুল ছিটকে পড়েছে। টাকমাথার হিরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে নিজের দাঁত ধরে। আশঙ্কাজনকভাবে দুইটা দাঁত নড়ছে। যেকোনো সময় খুলে আসতে পারে।

ডিরেক্টর বলে ওঠে, ‘প্যাকআপ। হিরোকে লোকেশন থেকে বাইর করে হাসপাতালে নে!’

.কাকফাঁকা এক সকালে!.উগান্ডার হুইপের ফেসবুক প্রোফাইল.আপনি কত বড় মিথ্যাবাদী?.বেরেক কাম করে না!.সিনেপ্লেক্সে একদিন .সড়কপথে বিমানের ছোঁয়া .আরও যা যা ফাঁস হতে পারে.Breaking Good