ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি চাই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি: বিমানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিমানবহরে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ দেখতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসতে শুরু করবে। ২০৩৬-৩৭ সাল পর্যন্ত সেগুলো বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নগরের সারিন্দা সবারি রিসোর্টে আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনা করেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি। একটা সময় আমরা থাকব না। আমাদের এই শিক্ষার্থীরা, যারা বিদেশে গিয়ে নিজেদের মুখ খুলে বলতে পারবে, আমাদেরও বিমান বহর রয়েছে।’ তাঁর মতে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কানাডা, নিউইয়র্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও বিকাশ ঘটবে।

ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনাঅনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান। তাঁরা ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিমানবন্দর নির্মিত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের দাবিতে উঠে আসে।

ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরে আর বেশি দিন চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। ত্রিশালে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণে সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি বিমানবন্দর নির্মাণ ছোটখাটো অবকাঠামো তৈরির মতো নয়। এ জন্য পরিকল্পনা ও সময়—দুটিই প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে শিশুপার্ক স্থাপন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি তোলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। শিশুপার্ক স্থাপনের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেষ্টা করা হবে। আগামী বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় পার্কটি দৃশ্যমান করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলবেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী হতে হবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।

সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

আমি চাই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি: বিমানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিমানবহরে ২০০টির বেশি উড়োজাহাজ দেখতে চান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসতে শুরু করবে। ২০৩৬-৩৭ সাল পর্যন্ত সেগুলো বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নগরের সারিন্দা সবারি রিসোর্টে আয়োজিত ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনা করেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন দেশের আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি। একটা সময় আমরা থাকব না। আমাদের এই শিক্ষার্থীরা, যারা বিদেশে গিয়ে নিজেদের মুখ খুলে বলতে পারবে, আমাদেরও বিমান বহর রয়েছে।’ তাঁর মতে, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কানাডা, নিউইয়র্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটন খাতেরও বিকাশ ঘটবে।

ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিকল্পনাঅনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান। তাঁরা ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিমানবন্দর নির্মিত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের দাবিতে উঠে আসে।

ময়মনসিংহে বিমানবন্দর নির্মাণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরে আর বেশি দিন চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় বড় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রয়োজন। ত্রিশালে বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণে সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, একটি বিমানবন্দর নির্মাণ ছোটখাটো অবকাঠামো তৈরির মতো নয়। এ জন্য পরিকল্পনা ও সময়—দুটিই প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে শিশুপার্ক স্থাপন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি তোলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। শিশুপার্ক স্থাপনের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের চেষ্টা করা হবে। আগামী বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় পার্কটি দৃশ্যমান করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলবেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। এ ছাড়া নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী হতে হবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ অন্যরা। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।

সংবর্ধনা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার পরিকল্পনাবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। টেন মিনিট স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষ হয়।