এক জোড়া ছোট্ট মাছের দাম ১৫ হাজার টাকা, মেলায় ছিল আরও কত চমক
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কাচের ঘরে রঙিন মাছের ছোটাছুটি। কোথাও মাথায় ঝুঁটি, কোথাও চোখের পাশে বেলুন। পানির নিচে সাজানো বাগান, এমনকি কাচের পাত্রে এক টুকরা অরণ্য। এসব নিয়েই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বসেছিল তিন দিনের ‘অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ ফেয়ার ২০২৬’। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মেলায় ৪৫টির বেশি স্টলে ছিল রঙিন মাছ, জলজ উদ্ভিদ, অ্যাকুয়ারিয়াম ও সাজসজ্জার নানা উপকরণ। শুক্রবার বিকেলে মেলা ঘুরে দেখা গেল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ মাছের ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, কেউ আবার ভিডিও কলে প্রিয়জনকে দেখাচ্ছেন রঙিন মাছের দুনিয়া। মেলায় ঘুরে দেখা বিচিত্র সব আয়োজনের কিছু ঝলক থাকল এখানে
.
গাপ্পি, বেলুন মলি, ব্ল্যাক মলি, ব্লু পান্ডা, অ্যাভাটার, গোল্ডফিশ, সিকলিড, টেট্রা, অ্যাঞ্জেলফিশ, ফ্লাওয়ার হর্ন, পার্ল গোরামি থেকে শুরু করে নানা জাতের নানা রঙের বেটা বা ফাইটার মাছ। সঙ্গে ছিল রঙিন চিংড়ি, ক্রেফিশ ও লোনাপানির ক্লাউনফিশ। নাম না–জানা আরও কত মাছ যে ছিল মেলায়!
.
মাথায় বিশাল ঝুঁটির মতো উঁচু অংশ। দেখতে যেমন বিচিত্র, স্বভাবেও তেমন চঞ্চল ফ্লাওয়ার হর্ন। কাচের বাইরে আঙুল নাড়ালেই সেদিকে ছুটে আসে মাছটি। আকারভেদে একেকটির দাম ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
.
২০০৩ সালের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘ফাইন্ডিং নিমো’র সেই কমলা-সাদা ক্লাউনফিশও ছিল মেলায়। অ্যাকোয়া টেক বিডির স্টলে কমলা ও কালো রঙের এক জোড়া ক্লাউনফিশের দাম ছিল ১৪ হাজার টাকা। মাছগুলো দেখে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারেননি অনেক দর্শনার্থী।
.
মুখের দুই পাশে বেলুনের মতো দুটি থলে। বিচিত্র চেহারার এই মাছের নাম বাবল আই গোল্ডফিশ। সোনালি ও লাল রঙের মাছগুলো বিক্রি হচ্ছিল দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়।
.
অবাক হওয়ার কিছু নেই। এ গোল্ড কোনো সোনার গয়না নয়, অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছের নাম। ঝকঝকে সোনালি রঙের ‘২৪ ক্যারেট গোল্ড’ নামের এক জোড়া মাছের দাম ছিল মাত্র ৪০০ টাকা।
.
ছোট ছোট কাচের পাত্রে লাল, গোলাপি, বাদামি ও সাদা রঙের ক্রেফিশ। দেখতে অনেকটা গলদা চিংড়ির মতো। দেশি ছোট চিংড়ির জোড়া যেখানে ৭০ টাকা, সেখানে রঙিন ক্রেফিশের দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।
.
মেলায় এক জোড়া গাপ্পিসহ কিছু প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছিল মাত্র ৫০ টাকায়। অন্যদিকে আমদানি করা বিশেষ জাতের সাদা, বাদামি ও ছোপযুক্ত মলির এক জোড়ার দাম ছিল সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা।
.
মাছের মেলায় শামুকও বিক্রি হচ্ছিল। অ্যাকুয়ারিয়ামের কাচ বেয়ে ওঠানামা করে এরা। দেখতে আকর্ষণীয়, অ্যাকুয়ারিয়ামের শেওলা পরিষ্কার রাখতেও কিছু প্রজাতির শামুক সহায়ক। একেকটির দাম মাত্র ২০ টাকা।
.
কিছু স্টলে মাছের পরিবর্তে ছিল শুধু জলজ উদ্ভিদ। অ্যাকুয়ারিয়াম সাজাতে এসব গাছের বেশ চাহিদা। মেলায় এক আঁটি জলজ উদ্ভিদ বিক্রি হচ্ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
.
পানির নিচে গালে হাত দিয়ে বসে আছে একদল তরুণী! আদতে এগুলো মানুষের আদলে তৈরি টব। মাথার চুলের জায়গায় গজিয়েছে সবুজ গাছ। পানিতে দুলছে সেই গাছের পাতা। গাছসহ এমন প্রতিটি টবের দাম ৫০০ টাকা।
.
টাকার গাছ নয়, এ যেন মাছের গাছ! ডালে ডালে ঝুলছে কাচের বয়াম, আর তার ভেতরে সাঁতার কাটছে ফাইটার বা বেটা মাছ। অভিনব এই ‘ফাইটার ট্রি’র দাম ৫ হাজার টাকা।
.
কাচের পাত্রের ভেতর পাহাড়, ঝরনা, নদী আর সবুজের সমারোহ। ছোট্ট এক প্রাকৃতিক দৃশ্য যেন। মেলায় এমন টেরারিয়াম ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের আদলে তৈরি কাচের সাজসজ্জার দাম ছিল ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।
.
মাছের পাশাপাশি মেলায় ছিল মাংসাশী উদ্ভিদের সংগ্রহও। পাঁচ ধরনের পোকাখেকো উদ্ভিদ দিয়ে সাজানো একটি টেরারিয়ামের দাম চাওয়া হচ্ছিল ২২ হাজার টাকা।
.
শুধু মাছ নয়, অ্যাকুয়ারিয়াম ও টেরারিয়াম সাজানোর উপকরণও ছিল মেলায়। ছোট-বড় পাথর, বালু, মাটি, মস ও ড্রিফটউড বা শুকনা কাঠ—সবই বিক্রি হচ্ছিল খুচরা ও পাইকারি দরে।
.
ইনডোর গাছের স্টলেও ছিল দর্শনার্থীদের আগ্রহ। নজর কাড়ে গোলাপি রঙের ছোট ছোট ফলভরা একটি ফাইকাস বনসাই। চায়না বট নামে পরিচিত এই বনসাইয়ের দাম হাঁকা হচ্ছিল ৫৫ হাজার টাকা।
.
রঙিন মাছের পাশাপাশি ছিল পাখির স্টলও। বাজরিগার, লাভবার্ডসহ নানা প্রজাতির পাখির দাম ছিল ৬০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কোনো কোনো শিশু পাখি হাতে নিয়ে ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছে।
.
মেলায় সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল শিশুদের চোখেমুখে। আজিমপুর থেকে মা-বাবার সঙ্গে এসেছিল দুই ভাইবোন আজমাঈন ও মুনতাহা। মাছ দেখে মুগ্ধ দুই শিশু কথা বলছিল টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে। আর সেই মুহূর্ত মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন তাদের বাবা।
.
এই মেলায় যেতে না পারলেও মন খারাপের কিছু নেই। ৫ থেকে ৮ নভেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের অ্যাবাকাস কনভেনশন সেন্টারে বসছে ‘বাংলাদেশ অর্নামেন্টাল ফিশ ফেয়ার অ্যান্ড শো ২০২৬’। চার দিনের এই মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। প্রবেশ ফি লাগবে না। থাকবে রঙিন মাছ, অ্যাকুয়ারিয়াম ও নানা সরঞ্জাম দেখার এবং কেনার সুযোগ।
.শীতলক্ষ্যা থেকে গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসত যে রহস্যময় মাছ























