সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের বদদোয়া: পরিণতি কী
- আপডেট সময় : ০৫:১২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

অনেক সময় সন্তানের অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্য বা ভুল আচরণের কারণে বাবা-মা চরম কষ্ট পান এবং রাগের বশবর্তী হয়ে সন্তানকে অভিশাপ বা বদদোয়া দিয়ে বসেন।
ইসলামের দৃষ্টিতে বাবা-মায়ের এই বদদোয়া সন্তানের ইহকাল ও পরকালের জন্য এক ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আলোচনা করা হলো।
.
আল্লাহর কাছে একজন পিতা বা মাতার দোয়ার যে মর্যাদা, তা অন্য কারও দোয়ার ক্ষেত্রে নেই। বাবা-মা যখন অন্তর থেকে সন্তানের জন্য দোয়া করেন, তা যেমন আল্লাহর আরশে সরাসরি পৌঁছে যায়, তেমনি তাঁরা যখন কষ্টে বা রাগে বদদোয়া করেন, সেটিও অত্যন্ত দ্রুত কবুল হয়ে যায়।
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়—মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং সন্তানের ওপর পিতা-মাতার দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৩৬)
সুতরাং, বাবা-মায়ের সামান্য রাগও সন্তানের জীবনের সমস্ত বরকত ও কল্যাণ নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
.
তোমরা নিজেদের ওপর বদদোয়া কোরো না, তোমাদের সন্তানদের ওপর বদদোয়া কোরো না এবং তোমাদের সম্পদের ওপর বদদোয়া কোরো না। এমন যেন না হয় যে তোমরা আল্লাহর কাছে এমন একটি সময়ে বদদোয়া করলে, যা দোয়া কবুলের সময়, আর আল্লাহ তোমাদের সেই বদদোয়া কবুল করে নিলেন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০৯
.দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করে.
সন্তান যতই অবাধ্য হোক না কেন, ইসলাম পিতা-মাতাকে রাগের মাথায় বদদোয়া দিতে নিষেধ করেছে। কারণ, রাগের বশবর্তী হয়ে দেওয়া বদদোয়া যদি আল্লাহর দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তের সঙ্গে মিলে যায়, তবে তা সন্তানের জীবনে স্থায়ী ধ্বংস ডেকে আনে, যার ফলে পরে বাবা-মাকেই অনুতপ্ত হতে হয়।
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের ওপর বদদোয়া কোরো না, তোমাদের সন্তানদের ওপর বদদোয়া কোরো না এবং তোমাদের সম্পদের ওপর বদদোয়া কোরো না। এমন যেন না হয় যে তোমরা আল্লাহর কাছে এমন একটি সময়ে বদদোয়া করলে, যা দোয়া কবুলের সময়, আর আল্লাহ তোমাদের সেই বদদোয়া কবুল করে নিলেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩০০৯)
.
মায়ের রাগের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার প্রমাণ মেলে হাদিসে বর্ণিত বনি ইসরাইলের জুরাইজ নামক এক ইবাদতগুজার ব্যক্তির ঘটনায়।
জুরাইজ তাঁর উপাসনালয়ে নফল নামাজ পড়ছিলেন, তখন তাঁর মা তাঁকে ডাকেন। জুরাইজ ভাবলেন, তিনি কি নামাজ ছাড়বেন নাকি মায়ের ডাকে সাড়া দেবেন; তিনি নামাজ চালিয়ে গেলেন।
মা রাগ করে বদদোয়া দিলেন যে ‘হে আল্লাহ, কোনো ব্যভিচারিণীর মুখ দেখার আগে তুমি জুরাইজের মৃত্যু দিয়ো না।’
.বাবা-মায়ের সঙ্গে আচরণের নিয়ম শিখতে কোরআনের ১০ আয়াত.
পিতা-মাতার অন্তর হলো সন্তানের জন্য এক বিশাল রহমতের ছায়া। রাগের মাথায় বদদোয়া না দিয়ে সন্তানের সুমতি ও হেদায়েতের জন্য দোয়া করাই হলো নবীজির আদর্শ।
.
মায়ের এই বদদোয়া কার্যকর হয়েছিল এবং এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জুরাইজকে এক ব্যভিচারিণীর কারণে চরম লাঞ্ছনা ও বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিলেন। যদিও আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আবার মুক্তিও পেয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৬)
এটি প্রমাণ করে যে সন্তানের ইবাদত বা নেক আমলও বাবা-মায়ের রাগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তাকে বাঁচাতে পারে না।
.
সন্তান ভুল করলে তাকে শাসন করার পূর্ণ আইনি অধিকার পিতা-মাতার রয়েছে, কিন্তু সেই শাসন যেন ধ্বংসাত্মক বদদোয়ার রূপ না নেয়।
ইবনে কাসির (রহ.) উল্লেখ করেছেন, রাগের সময় মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না; তাই সন্তান যতই অবাধ্য হোক না কেন, পিতা-মাতার উচিত তাদের হেদায়েত ও সংশোধনের জন্য আল্লাহর কাছে সুন্দর দোয়া করা, বদদোয়া নয়। কারণ বদদোয়া সন্তানের ইহকাল–পরকাল উভয়ই ধ্বংস করে দেয়। (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, সুরা ইসরার ২৩-২৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা, দারু তাইয়িবাহ, রিয়াদ, ১৯৯৯)
ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেছেন, সন্তান অবাধ্য হলে তাকে শাসন করার অধিকার পিতা-মাতার রয়েছে, কিন্তু এমন কোনো ভাষা বা বাক্য ব্যবহার করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়), যা সন্তানের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, ৬/৪২৮, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯২)
পিতা-মাতার অন্তর হলো সন্তানের জন্য এক বিশাল রহমতের ছায়া। রাগের মাথায় বদদোয়া না দিয়ে সন্তানের সুমতি ও হেদায়েতের জন্য দোয়া করাই হলো নবীজির আদর্শ।
অন্যদিকে সন্তানেরও উচিত সবসময় সতর্ক থাকা, যেন তার কোনো আচরণ বা কথায় বাবা-মায়ের অন্তর সামান্যতমও আহত না হয়; কারণ তাঁদের অসন্তুষ্টির মাঝেই লুকিয়ে আছে উভয় জগতের চরম ব্যর্থতা।
.ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার মতো দ্রুত কি বাবা-মায়ের ডাকে সাড়া দিই


























