১০ বছরেও জ্বলেনি সুন্দরগঞ্জ পৌর শ্মশানের চুল্লি, নকশা বদলে কাজে নেমেছেন স্থানীয়রা
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কন্নিপাড়ায় অবস্থিত একমাত্র কেন্দ্রীয় শ্মশানের আধুনিক চুল্লির নির্মাণকাজ। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। অবশেষে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না পেয়ে সরকারি মূল নকশা পরিবর্তন করে নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে চুল্লিটি ব্যবহারোপযোগী করার কাজ শুরু করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি শ্মশানের অসমাপ্ত চুল্লির কাঠামোর ওপর বাঁশের মাচা বেঁধে নির্মাণকাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। স্থানীয়দের উদ্যোগে পুরোনো নকশায় পরিবর্তন এনে নতুনভাবে চুল্লি নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১০ বছর আগে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে আধুনিক শ্মশান চুল্লি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা সম্পন্ন করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে মৃতদেহ সৎকারে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে শুরু হওয়া প্রকল্পটি কেন এত বছরেও শেষ হয়নি, তা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে দ্রুত স্থায়ীভাবে শ্মশান চুল্লির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা শংকর সরকার বলেন, ‘একটি পৌরসভার কেন্দ্রীয় শ্মশানের চুল্লি ১০ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতদেহ সৎকারের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আজ আমাদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এবং বাধ্য হয়ে নকশা পরিবর্তন করে কাজ করতে হচ্ছে।’
শ্মশান কমিটির সদস্য বাপ্পী সরকার বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় নিরুপায় হয়ে নিজেদের অর্থ ও উদ্যোগে চুল্লিটি সচল করার কাজ শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রকল্পটি নানা জটিলতায় প্রায় ১০ বছর ধরে আটকে রয়েছে। মৃতদেহ সৎকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। তাই স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেরাই এই উদ্যোগ নিয়েছেন।’
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলির বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















