ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য ঘর হারিয়েও গল্প বলা থামেনি তাঁদের গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এই বুদ্ধি কোথায় পেলেন: প্রসিকিউশনকে প্রশ্ন ট্রাইব্যুনালের হঠাৎ উচ্ছেদ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে এক মাস সময় দেওয়ার দাবি বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ যুক্তরাষ্ট্রে বসে ওয়ারীতে মাদকের ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেপ্তার আবার হামলা হলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের

দেবিদ্বারে বাস থামিয়ে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে জিরা লুট, আটক ৩

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে জিরা লুটের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৪২০ কেজি জিরার পুরো চালান উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত k অভিযান চালিয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

আটকরা হলেন, দেবিদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হাসান (২৮), রুহুল আমীনের ছেলে মো. মাসুক ওরফে মনা (২৬) এবং খলিলপুর গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মো. জুয়েল (৩০)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসভার পান্নারপুল এলাকার সিএনজি স্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে নোয়াখালীগামী ‘লাল সবুজ’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাসটির গতিরোধ করে।

এ সময় সাদা পোশাকে থাকা চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে। তারা বাসে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে বাসে থাকা ৩০ কেজি ওজনের ১৪টি জিরার বস্তা জব্দের কথা বলে নিয়ে যায়। বাধা দিলে বাসের স্টাফ ও কয়েকজন যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় জিরার মালিক নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

পরে আটক তিনজনের দেওয়া তথ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে ১৪ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়।

ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘লুট হওয়া জিরার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পুরো মালামাল উদ্ধার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।’

সিলেট আম্বরখানা এলাকার ‘সিলেট বাজার’-এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো ১৪ বস্তা জিরার মোট ওজন ছিল ৪২০ কেজি। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সব জিরা উদ্ধার করেছে।’

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ঈমাম হোসেন বলেন, ‘আটক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি n মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

দেবিদ্বারে বাস থামিয়ে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে জিরা লুট, আটক ৩

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বারে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে জিরা লুটের ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ৪২০ কেজি জিরার পুরো চালান উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত k অভিযান চালিয়ে দেবিদ্বার থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

আটকরা হলেন, দেবিদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল হাসান (২৮), রুহুল আমীনের ছেলে মো. মাসুক ওরফে মনা (২৬) এবং খলিলপুর গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মো. জুয়েল (৩০)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৮ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসভার পান্নারপুল এলাকার সিএনজি স্ট্যান্ডে ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে নোয়াখালীগামী ‘লাল সবুজ’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সেখানে পৌঁছালে ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাসটির গতিরোধ করে।

এ সময় সাদা পোশাকে থাকা চক্রের সদস্যরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে। তারা বাসে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে বাসে থাকা ৩০ কেজি ওজনের ১৪টি জিরার বস্তা জব্দের কথা বলে নিয়ে যায়। বাধা দিলে বাসের স্টাফ ও কয়েকজন যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

এ ঘটনায় জিরার মালিক নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার মুছাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুল হাসান দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে।

পরে আটক তিনজনের দেওয়া তথ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং বাজারে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে ১৪ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়।

ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘লুট হওয়া জিরার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পুরো মালামাল উদ্ধার হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।’

সিলেট আম্বরখানা এলাকার ‘সিলেট বাজার’-এর মালিক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো ১৪ বস্তা জিরার মোট ওজন ছিল ৪২০ কেজি। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সব জিরা উদ্ধার করেছে।’

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ঈমাম হোসেন বলেন, ‘আটক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি n মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।