নীলফামারীতে ৪টি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারী জেলায় এক ঐতিহাসিক নির্বাচনী ফলাফল সামনে এসেছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করেছেন। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে তারা জয় নিশ্চিত করেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
নীলফামারী-০১ (ডোমার-ডিমলা):
ডোমার উপজেলা ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১,৪৯,২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (খেজুর গাছ) পেয়েছেন ১,১৮,১৬০ ভোট। এই আসনে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তিস্তা নদীভাঙন সমস্যা সমাধান, কৃষি সহায়তা বৃদ্ধি ও সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের প্রত্যাশা রয়েছে ভোটারদের।
নীলফামারী-০২ (নীলফামারী সদর):
নীলফামারী সদর আসনে আল ফারুক আব্দুল লতিফ (দাঁড়িপাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১,৪৫,২০২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী শাহারিন ইসলাম তুহিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১,৩৪,৫৭৯ ভোট। এ আসনে শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ, যুব কর্মসংস্থান এবং শহরের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি এখন বড় প্রত্যাশা।
নীলফামারী-০৩ (জলঢাকা):
জলঢাকা উপজেলা আসনে ১০৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওবায়দুল্লাহ সালাফি (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,০৮,৫৬০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ আলী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৯,১০২ ভোট। এই অঞ্চলে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ সড়ক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
নীলফামারী-০৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ):
সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,২৪,৮৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮১,৫২৬ ভোট।
রেলওয়ে শহর সৈয়দপুরে শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা:
জেলার চারটি আসনেই একই প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ে রাজনৈতিকভাবে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে—
*তিস্তা অববাহিকার টেকসই উন্নয়ন
*কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা
*যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান
*আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা
*শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন
এসব ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।
জেলার ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে নীলফামারী উন্নয়নের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে।

















