ফটিকছড়িতে অবৈধ মাটি উত্তোলন থামছেনা,প্রশাসন নির্বিকার
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

উপজেলার পাহাড়ি এলাকা, খালেরপাড় এবং উর্বর কৃষিজমি সবই এখন অবৈধ মাটি উত্তোলনের শিকার। সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের লাখ লাখ টাকার জরিমানা সত্ত্বেও মাটি কাটার কার্যক্রম থামছেই না। উপজেলা প্রশাসন কার্যত নির্বিকার হয়ে পড়েছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করছেন, এভাবে চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, নদী ও ভূমি সংরক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যস্ত হবে। গত চার মাসের অভিযান ও জরিমানা ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্যানুসারে, অক্টোবর ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ফটিকছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ৭টি বড় অভিযান চালানো হয়েছে।৮ জানুয়ারি ২০২৬ হারুয়ালছড়ি, বাংলা বাজার এলাকায় ১ জনকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় কৃষিজমি শ্রেণি পরিবর্তন করে মাটি কাটার দায়ে।১৫ জানুয়ারি পাইন্দং, য্যোগিনাঘাটা ব্রিজ এলাকায় ২ জনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অপরাধ স্বীকার করে মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত হয়ে মুচলেকা দেয়।২২–২৩ জানুয়ারি ধর্মপুর, বক্তপুর, জাফতনগর অভিযান চালিয়ে ১ জনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । ডিসেম্বর ২০২৫ উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচাঁনে ১ জনকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাটির টপসয়েল কেটে নেওয়ার অপরাধে মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।এ পর্যন্ত মোট জরিমানা প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকা।
স্থানীয় কৃষক মো:লোকমান জানান, “জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ফলে ফসল উৎপাদন অবশ্য অনেক কম হবে। যদি এমন অবস্থা চলতে থাকে ভবিষ্যতে জীবিকা বিপন্ন হবে ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হবে।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে,“পাহাড়ি এলাকা ও খালেরপাড় থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন বর্ষাকালে ভূমিধস, নদী ভাঙন এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে দেবে। এটি শুধুমাত্র ফটিকছড়ি নয়, পুরো চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য হুমকি।”
সরাসরি মাঠ পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,ফটিকছড়ি উত্তরের বিস্তৃত টিলা অঞ্চল মধ্য ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের সমতল ও টিলা এলাকা সুন্দরপুরের সমতল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সমতল সূয়াবিল ও নাজিরহাটের হালদার পাড় হারুয়ালছড়ির সমতল এলাকা ও দক্ষিণ ফটিকছড়ির বিস্তৃত অঞ্চলে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে খালেরপাড়ের মাটি ও বালি উত্তোলনে বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা এবং ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন,“অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়মিত চলছে। জনস্বার্থে কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”


















