তিস্তার চরে তরমুজে ফিরছে হাসি, বাজারের দিকে তাকিয়ে কৃষকেরা
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারী জেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষে এখন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ লতায় ভরে উঠেছে মাঠ, আর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেচ, পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলার তিস্তার বাঘের চরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালুমিশ্রিত চর জমি তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর এই ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায় এবং তুলনামূলক কম খরচে লাভের সম্ভাবনা থাকায় অনেক কৃষক গম ও ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ইউনিয়নের তিস্তার চর এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, ৪০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছ ভালো আছে। বাজারদর ভালো থাকলে লাভ হবে বলে আশা করছি। একই এলাকার আরেক কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বছর ১২ বিঘা জমিতে তরমুজে ভালো লাভ হয়েছিল। তাই এবার আবাদ ৭০ বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেছি।
কৃষকরা জানান, এবারের একটানা ১৫দিন শৈত্য প্রবাহ থাকার কারণে বেশকিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমরা বাজার জাত করতে পারবো। এবং দ্বিতীয় চালানে যেগুলো চারা রোপন করা হয়েছে সেগুলো পুরো রমজানে বাজারে বিক্রি করা যাবে। ভালো ফলন আর আবহাওয়া সন্তোষজনক হলেও কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় নিয়মিত জমির দেখভাল করতে হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর স‚ত্রে জানা গেছে, তিস্তার চরাঞ্চলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারদর অনুক‚লে থাকলে চরাঞ্চলের কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, চরাঞ্চলের কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে কৃষি অধিদপ্তরের ডিমলা উপজেলা কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, তিস্তার চরে আমাদের তিনজন কৃষকের মাধ্যমে সেনভার পদ্ধতিতে প্রায় ২৫জন কৃষক ৩০০ বিঘা জমিতে চাষ করছে। প্রতি কেজি তরমুজ ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করবে প্রতি পিছ তরমুজের ওজন ৬/৭ কেজি পর্যন্ত। শুরু থেকে কৃষি বিভাগের সহযোগীতা ছিল এবং আছে। তবে বর্তমানে চরের মুল সম্যা হলো ইরিগেশন তবে আগামী সপ্তাহের আমরা এই কৃষকদের মাঝে ডিজেল চালিত পাম্প ও লতা পাইব বিতরণ করবো। আগামীতে আমরা ১০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ লাগাতে সক্ষম হবো।
কৃষকদের প্রত্যাশা, এবছর তরমুজের ভালো ফলন হলে নীলফামারীর তিস্তার চরাঞ্চলে জীবিকা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


















