হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণায় সরকারি কর্মকর্তাদের আইনগত বাধা নেই
- আপডেট সময় : ১০:২৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে আয়োজিত সিলেট বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছেন, যাদের স্বজনেরা এখনো বেওয়ারিশ লাশ খুঁজে ফিরছেন, তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই জীবন দিয়েছেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধাপ হচ্ছে এই গণভোট।
তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। প্রচারণায় আইনগত বাধা আছে—এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোন নৈতিকতার কথা বলা হচ্ছে—যে নৈতিকতা তরুণদের রক্ত ও আত্মদানকে অস্বীকার করে?
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দেখার সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বৈধতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই সরকার। এটি কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সরকার নির্বাচন আয়োজন করে না, বরং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন এবং বিচার পরিচালনা করে আদালত। সরকারের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্র সংস্কার।
এর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণভোটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং আইনগতভাবেও বৈধ।
গণভোট সাধারণ মানুষ বুঝবে না—এমন ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে জনগণ মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, তারা অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও বুঝতে সক্ষম। এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষকে হেয় করার শামিল।
গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আলী রীয়াজ বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন, তারা আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব রেখে গেছেন—বাংলাদেশকে যেন একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতেই জুলাই সনদ ও এই গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরবে না, কিন্তু ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে যদি আমরা তার পথ বন্ধ না করি। এই চক্র ভাঙতেই এবারের গণভোট।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মসচিব কামাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগের কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। আরও বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, ব্যারিস্টার নাজির আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।


















