ঢাকা ০৮:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারীতে ৪টি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ের পর ভিপি আয়নুল হকের দোয়া ও শুভেচ্ছা বার্তা ডোমার–ডিমলায় বৈষম্যহীন উন্নয়নের অঙ্গীকার: নবনির্বাচিত এম পি আব্দুস সাত্তার চট্টগ্রাম ১৫ এর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ৪৫হাজার ৩৬ ভোটে এগিয়ে সকাল ৭ টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ঘোষণায় কোন দল কত আসন পেয়েছেন  গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম বিজয়ী গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মতো তিন আসনে ধানের শীষের জয় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আয়নুল হক  গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হলেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী

জনপ্রিয় হচ্ছে লাল পুঁই শাক, বদলাচ্ছে মেহেরপুরের কৃষি অর্থনীতি

মেহেরপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেহেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে লাল পুঁই শাকের বীজ চাষ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর এই শাকের বীজ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে জেলার কৃষকদের মধ্যে। অল্প খরচে ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকায় এটি এখন অনেকের কাছে লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেলার হরিরামপুর ও গাংনী উপজেলার সাহারবাটি, নওদাপাড়া ও শ্যামপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে লাল পুঁই শাকের বীজ চাষে নতুন গতি এসেছে। বেসরকারি বীজ কোম্পানির সহায়তায় অনেক কৃষক সহজেই সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে বীজ উৎপাদন করে খরচ কমিয়ে বেশি লাভ করছেন।

নতুন আবাদ হিসেবে মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে লাল পুঁই শাকের বীজ উৎপাদন। একসময় যেখানে তামাক চাষ হতো, সেসব জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে এই বীজ চাষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাষি চায়ান উদ্দীন ও আমিরুল ইসলাম জানান, কয়েক বিঘা জমিতে লাল পুঁই শাকের বীজ উৎপাদন করে তারা ভালো ফল পেয়েছেন। শাক বিক্রির পাশাপাশি বীজ বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে। কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অনেক কৃষক উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাতের লাল পুঁই শাকের বীজ ব্যবহার করে আরও বেশি লাভবান হচ্ছেন। বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো অগ্রিম সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কৃষকদের বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।

লাল পুঁই শাক চাষে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নারীরা বাড়ির আঙিনায় মাচা তৈরি করে লাল পুঁই শাক চাষ করছেন। এতে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাল পুঁই শাকে রয়েছে উচ্চমাত্রার আয়রন ও ভিটামিন, যা মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে ভবিষ্যতে এই শাক ও এর বীজের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে লাল পুঁই শাকের বীজ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মেহেরপুরের কৃষিতে একটি নতুন ও সফল অধ্যায়ের সূচনা হবে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে এই বীজ চাষ জেলার একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

জনপ্রিয় হচ্ছে লাল পুঁই শাক, বদলাচ্ছে মেহেরপুরের কৃষি অর্থনীতি

আপডেট সময় : ০৫:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

মেহেরপুরের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে লাল পুঁই শাকের বীজ চাষ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর এই শাকের বীজ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ছে জেলার কৃষকদের মধ্যে। অল্প খরচে ভালো লাভের সম্ভাবনা থাকায় এটি এখন অনেকের কাছে লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেলার হরিরামপুর ও গাংনী উপজেলার সাহারবাটি, নওদাপাড়া ও শ্যামপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে লাল পুঁই শাকের বীজ চাষে নতুন গতি এসেছে। বেসরকারি বীজ কোম্পানির সহায়তায় অনেক কৃষক সহজেই সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে বীজ উৎপাদন করে খরচ কমিয়ে বেশি লাভ করছেন।

নতুন আবাদ হিসেবে মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে লাল পুঁই শাকের বীজ উৎপাদন। একসময় যেখানে তামাক চাষ হতো, সেসব জমিতে বিকল্প ফসল হিসেবে এই বীজ চাষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাষি চায়ান উদ্দীন ও আমিরুল ইসলাম জানান, কয়েক বিঘা জমিতে লাল পুঁই শাকের বীজ উৎপাদন করে তারা ভালো ফল পেয়েছেন। শাক বিক্রির পাশাপাশি বীজ বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে। কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় এবং রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অনেক কৃষক উচ্চমূল্যের হাইব্রিড জাতের লাল পুঁই শাকের বীজ ব্যবহার করে আরও বেশি লাভবান হচ্ছেন। বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো অগ্রিম সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কৃষকদের বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।

লাল পুঁই শাক চাষে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নারীরা বাড়ির আঙিনায় মাচা তৈরি করে লাল পুঁই শাক চাষ করছেন। এতে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাল পুঁই শাকে রয়েছে উচ্চমাত্রার আয়রন ও ভিটামিন, যা মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে ভবিষ্যতে এই শাক ও এর বীজের চাহিদা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে লাল পুঁই শাকের বীজ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মেহেরপুরের কৃষিতে একটি নতুন ও সফল অধ্যায়ের সূচনা হবে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে এই বীজ চাষ জেলার একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।