ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারীতে ৪টি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ের পর ভিপি আয়নুল হকের দোয়া ও শুভেচ্ছা বার্তা ডোমার–ডিমলায় বৈষম্যহীন উন্নয়নের অঙ্গীকার: নবনির্বাচিত এম পি আব্দুস সাত্তার চট্টগ্রাম ১৫ এর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ৪৫হাজার ৩৬ ভোটে এগিয়ে সকাল ৭ টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ঘোষণায় কোন দল কত আসন পেয়েছেন  গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম বিজয়ী গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মতো তিন আসনে ধানের শীষের জয় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আয়নুল হক  গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হলেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী

কনকনে শীতে স্থবির সাতক্ষীরা

হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন, দুর্ভোগে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরীয় বরফশীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। কনকনে শীতের তীব্র হাওয়ায় কাঁপছে মানুষ। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, এবং দিগন্তজুড়ে কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। এ অবস্থায় জেলার নিম্ন আয়ের, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ জীবিকার তাগিদে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার ভোরে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শীত আরও তীব্র মনে হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।

শীতের এই চরম অবস্থায় স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় অচল। মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহর ও গ্রামে খড়কুটো, শুকনো লতাপাতা ও পরিত্যক্ত কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষ। দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকরা শীতে কাজে বের হতে পারছেন না। ভ্যানচালকরা জানান, “হাত-পা জমে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না।”

শ্যামনগরের ভেটখালী বাজারে দিনমজুর মনিরুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে রোদ নেই। তবুও কাজ না করলে সংসার চলবে না।” রোদ না ওঠায় যাত্রীর সংখ্যাও কমেছে, যা আয়ের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

তীব্র শীতের সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর ও ডায়রিয়া এবং বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন।

শ্যামনগর উপজেলার প্রশাসন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক ঈশ্বরীপুর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ছিন্নমূল মানুষ এবং মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরের ইউএনও জানান, শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার সব উপজেলায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে। তাপমাত্রা আরও কমলে কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানুয়ারি মাসজুড়েই কুয়াশা ও শীতের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শীতের এই ধূসর দিনগুলো শেষ হয়ে যাবে, তবে আগুনের সামান্য উত্তাপ ও কম্বলই সাতক্ষীরার প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার আশা জিইয়ে রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

কনকনে শীতে স্থবির সাতক্ষীরা

হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন, দুর্ভোগে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তরীয় বরফশীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। কনকনে শীতের তীব্র হাওয়ায় কাঁপছে মানুষ। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, এবং দিগন্তজুড়ে কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। এ অবস্থায় জেলার নিম্ন আয়ের, শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ জীবিকার তাগিদে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার ভোরে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় শীত আরও তীব্র মনে হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।

শীতের এই চরম অবস্থায় স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় অচল। মানুষ খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। শহর ও গ্রামে খড়কুটো, শুকনো লতাপাতা ও পরিত্যক্ত কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষ। দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকরা শীতে কাজে বের হতে পারছেন না। ভ্যানচালকরা জানান, “হাত-পা জমে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না।”

শ্যামনগরের ভেটখালী বাজারে দিনমজুর মনিরুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে রোদ নেই। তবুও কাজ না করলে সংসার চলবে না।” রোদ না ওঠায় যাত্রীর সংখ্যাও কমেছে, যা আয়ের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

তীব্র শীতের সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, সর্দি-জ্বর ও ডায়রিয়া এবং বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন।

শ্যামনগর উপজেলার প্রশাসন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুজ্জাহান কনক ঈশ্বরীপুর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ছিন্নমূল মানুষ এবং মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরের ইউএনও জানান, শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার সব উপজেলায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে। তাপমাত্রা আরও কমলে কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানুয়ারি মাসজুড়েই কুয়াশা ও শীতের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শীতের এই ধূসর দিনগুলো শেষ হয়ে যাবে, তবে আগুনের সামান্য উত্তাপ ও কম্বলই সাতক্ষীরার প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার আশা জিইয়ে রাখছে।