নবীনগরে শৈত্যপ্রবাহে কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

গত এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলাজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বছরের এই সময়ে কৃষিকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা, শীতকালীন সবজি ও রবি শস্যের উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে চারা মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, টমেটো, শিম, লাউ, করলাসহ বিভিন্ন ফসলের পাতা ও মুকুল কালো হয়ে যাচ্ছে, যা ফলন মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। তীব্র শীতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, ডগা মারা যাচ্ছে এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়ছে। এতে করে কৃষকের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাইতলা উত্তর, নাটঘর, নবীনগর পূর্ব, শিবপুর ও বিদ্যাকুট ইউনিয়নের হাওর এলাকায় ধান রোপণ পুরোদমে চলছে। অন্যদিকে ইব্রাহিমপুর, লাউরফতেহপুর ও জিনদপুর ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে কৃষকেরা বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগরে ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি হয়েছে। এসব বীজতলা থেকে প্রায় ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি কমাতে উপসহকারী কৃষি অফিসারদের পরামর্শে কৃষকেরা বিকেলে বীজতলায় সেচ দিচ্ছেন এবং সকালে সেই পানি বের করে নতুন পানি দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিচ্ছেন।
এদিকে নবীনগর উপজেলায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে আলু এবং ২১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়ায় এসব ফসলে নাবী ধ্বসা রোগের আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নাবী ধ্বসা রোগ প্রতিরোধে অনুমোদিত মাত্রায় ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক ৫ থেকে ৭ দিন পরপর স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। তীব্র শীতে সরিষায় রোগবালাই ও পরাগায়নে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
শৈত্যপ্রবাহে করণীয় বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, কৃষিতে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কৃষকদের কাজ করতে হয়। শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রবি শস্য ও বোরো বীজতলা। আমরা শুরু থেকেই কৃষকদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে চলে আসবে।


















