ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারীতে ৪টি আসনেই জামায়াত প্রার্থীদের জয়, উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশা সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ের পর ভিপি আয়নুল হকের দোয়া ও শুভেচ্ছা বার্তা ডোমার–ডিমলায় বৈষম্যহীন উন্নয়নের অঙ্গীকার: নবনির্বাচিত এম পি আব্দুস সাত্তার চট্টগ্রাম ১৫ এর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী ৪৫হাজার ৩৬ ভোটে এগিয়ে সকাল ৭ টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ঘোষণায় কোন দল কত আসন পেয়েছেন  গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম বিজয়ী গোপালগঞ্জে প্রথমবারের মতো তিন আসনে ধানের শীষের জয় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আয়নুল হক  গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হলেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী

নতুন সম্ভাবনা

খুলনার হারুন অর রশিদের সরিষা চাষে সাফল্য

খুলনা ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের সকাল কুয়াশার মধ্যে যখন গ্রামের মাঠে ফুটে ওঠে হলুদ সরিষার ফুল, তখন প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কৃষকের নিরব সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের মালত গ্রামের মৃত শাহাজুদ্দীন গাজীর ছেলে হারুন অর রশিদের জীবন সেই গল্পের অন্যতম উদাহরণ।

দীর্ঘদিন ধরেই হারুন অর রশিদের জীবিকা নির্ভর করতো ধান ও মাছ চাষের ওপর। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার-খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান চাষ হয়ে পড়ে অলাভজনক। সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তিনি বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা চাষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত এবং সঠিক সময়ে বপনের মাধ্যমে চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তার জমি সবুজ সরিষা গাছের সমারোহে ভরে উঠে, যা পরে হলুদ ফুলে বিস্তৃত মাঠে রূপ নেয়।

হারুন অর রশিদ উপজেলার হিতামপুর মৌজায় বোয়ালিয়া ব্রিজসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরে ৭০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘার জন্য বছরে ১১ হাজার টাকা হারি দিতে হয়। ৭০ বিঘা জমিতে তিনি ৫০ কেজি বীজ বপন করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বিনেরপোতা ও সাতক্ষীরার আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে বীজ সহায়তা পেয়েছেন।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরিষা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সেচ ও কীটনাশকের প্রয়োজন কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় সীমিত থাকে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো সার প্রয়োগে রোগবালাইও কম হয়েছে। ৮০-৮৫ দিনের মধ্যেই ফসল কাটার উপযোগী হওয়ায় অল্প সময়েই লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়।’

ফসল কাটার সময় ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও ৭০ বিঘা জমিতে কাটাই বাবদ প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়।

স্থানীয় কৃষক তসলিম মিয়া বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমই একজন কৃষকের জীবনে সোনালি পরিবর্তন আনতে পারে। কৃষির আধুনিক দিকগুলো সকলের কাজে লাগানো উচিত।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন জানান, ‘বৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরি হলেও সরিষা চাষে সম্ভাবনা রয়েছে। হারুন অর রশিদের বীজের জন্য আমি নিজে বিএআরআই সাতক্ষীরা থেকে বীজ এনে দিয়েছি। আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নতুন সম্ভাবনা

খুলনার হারুন অর রশিদের সরিষা চাষে সাফল্য

আপডেট সময় : ০৬:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের সকাল কুয়াশার মধ্যে যখন গ্রামের মাঠে ফুটে ওঠে হলুদ সরিষার ফুল, তখন প্রকৃতির সেই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কৃষকের নিরব সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের মালত গ্রামের মৃত শাহাজুদ্দীন গাজীর ছেলে হারুন অর রশিদের জীবন সেই গল্পের অন্যতম উদাহরণ।

দীর্ঘদিন ধরেই হারুন অর রশিদের জীবিকা নির্ভর করতো ধান ও মাছ চাষের ওপর। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার-খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান চাষ হয়ে পড়ে অলাভজনক। সংসারের খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তিনি বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা চাষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত এবং সঠিক সময়ে বপনের মাধ্যমে চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তার জমি সবুজ সরিষা গাছের সমারোহে ভরে উঠে, যা পরে হলুদ ফুলে বিস্তৃত মাঠে রূপ নেয়।

হারুন অর রশিদ উপজেলার হিতামপুর মৌজায় বোয়ালিয়া ব্রিজসংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরে ৭০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘার জন্য বছরে ১১ হাজার টাকা হারি দিতে হয়। ৭০ বিঘা জমিতে তিনি ৫০ কেজি বীজ বপন করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বিনেরপোতা ও সাতক্ষীরার আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে বীজ সহায়তা পেয়েছেন।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরিষা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সেচ ও কীটনাশকের প্রয়োজন কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় সীমিত থাকে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো সার প্রয়োগে রোগবালাইও কম হয়েছে। ৮০-৮৫ দিনের মধ্যেই ফসল কাটার উপযোগী হওয়ায় অল্প সময়েই লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়।’

ফসল কাটার সময় ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও ৭০ বিঘা জমিতে কাটাই বাবদ প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়।

স্থানীয় কৃষক তসলিম মিয়া বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমই একজন কৃষকের জীবনে সোনালি পরিবর্তন আনতে পারে। কৃষির আধুনিক দিকগুলো সকলের কাজে লাগানো উচিত।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন জানান, ‘বৃষ্টির কারণে কিছুটা দেরি হলেও সরিষা চাষে সম্ভাবনা রয়েছে। হারুন অর রশিদের বীজের জন্য আমি নিজে বিএআরআই সাতক্ষীরা থেকে বীজ এনে দিয়েছি। আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।’