কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত
আজ তিন বিভাগে তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে নামতে পারে
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

জেঁকে বসেছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমেল বাতাস যেন সুঁইয়ের ফলার মতো বিঁধছে। বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে ও দোকানপাটে তেমন লোকজন কম দেখা যাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দরিদ্র মানুষের আয় বন্ধ থাকায় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানী ঢাকায় গতকাল মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকার তাপমাত্রা সকালেই ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে পারে, ফলে শীত বেশি অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, রাজধানীতে শীতের প্রকোপ বেড়েছে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। কুয়াশার প্রভাব বেশি হলে তাপ কমে শীত অনুভূত হয়। আজ মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে আজ সোমবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এর সঙ্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনার অন্যান্য জেলাগুলিতেও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মূলত, তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪-৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রির নিচে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষের দিকে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে।
























