আজ খোলা হচ্ছে পাগলা মসজিদের সিন্দুক
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানসিন্দুক আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে খোলা হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসায় ঘেরা এই সিন্দুক খোলাকে ঘিরে সারাদেশেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এর আগে সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট পাগলা মসজিদের সিন্দুক খোলা হয়েছিল। সেবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা গণনা শেষে রেকর্ড অঙ্কের ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা সংগ্রহ হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গিয়েছিল। ওই সময় প্রায় ৫০০ জনের একটি দল টানা টাকা গণনার কাজে অংশ নেয়।
এবারের সিন্দুক খোলার বিষয়টি আরও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুকগুলো খোলা হচ্ছে। সাধারণত প্রতি তিন মাস অন্তর সিন্দুক খোলা হলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার সময় কিছুটা বাড়ানো হয়।
পাগলা মসজিদে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা দান ও মানত নিয়ে আসেন। ধর্মীয় নানা কর্মসূচি ও জুমার দিনে এখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এসব সময় দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, এবারও আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে দানের অঙ্ক।
আজ সকালে দানসিন্দুক খোলার সময় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, ব্যাংক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের। টাকা গণনার কাজে অংশ নেবেন প্রায় ৫০০ জন।
উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন, গরিব ও অসহায়দের সহায়তা, মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদটি প্রথমে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হলেও বর্তমানে এর পরিসর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ একর ৮৮ শতাংশে। তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে রয়েছে পাঁচতলা ভবনের সমান উচ্চতার একটি সুউচ্চ মিনার। একসঙ্গে প্রায় ৬ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন এখানে, পাশাপাশি নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক নামাজের ব্যবস্থা।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহু বছর আগে নরসুন্দা নদীর বুকে জেগে ওঠা একটি উঁচু স্থানে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বসবাস ছিল। তার ইন্তেকালের পর এলাকাবাসী ওই স্থানকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে গড়ে তোলে। সময়ের পরিক্রমায় এই মসজিদে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের আগমন বাড়তে থাকে। মানত করলে মনোবাসনা পূরণ হয়—এমন বিশ্বাস থেকেই মানুষ নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রুপার অলংকার, গবাদিপশু এমনকি বৈদেশিক মুদ্রাও দান করে থাকেন।
প্রায় আড়াইশ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহনকারী এই মসজিদকে ঘিরে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। নতুন কমপ্লেক্সে একসঙ্গে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং থাকবে ২০০টি গাড়ির পার্কিং সুবিধা।


















