সিলেটে তৌসিফ, সাফা ও টয়ার ঘোরাঘুরির গল্প
- আপডেট সময় : ০৭:২০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মিডিয়ায় সহকর্মী নাকি বন্ধু হয় না। কারণ, সবাই এখানে একে অন্যের সহযোগী নয়, প্রতিযোগী। তবে তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির ও মুমতাহিনা টয়ার গল্পটি আলাদা। তিন বন্ধু একসঙ্গে ঘুরতে গেলেন সিলেটের লালাখালে। সেই ঘোরাঘুরির গল্পই শোনাচ্ছেন মনজুরুল আলম
.
গত ২৭ অক্টোবর ছিল অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন। তৌসিফ জানান, প্রতিবার জন্মদিনেই কোনো না কোনো কাজ পড়ে যায়। শুটিংসহ নানা ব্যস্ততায় দিনটি কাটে। চাইলেও পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো হয় না। যে কারণে এবার আগে থেকেই শুটিং বন্ধ করেন অভিনেতা তৌসিফ। জানান, ঢাকায় থাকলে কেউ না কেউ, কোনো না কোনো কাজ করিয়ে নেয়। যে কারণে স্ত্রী ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
তৌসিফ বললেন, ‘এবার জন্মদিনে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, পেরেছি। নিজের মতো করে ঘুরেছি; আর যেহেতু বন্ধুরা সব সময় জন্মদিনে পাশে থাকে, সে কারণে তাঁদের জানিয়েছিলাম, আমার সঙ্গে যাবে কি না। রাজি হয়ে গেল সাফা, টয়া ও সিয়াম (আহমেদ)। ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেনি সিয়াম। ব্যস্ততার ফাঁকে নিজেদের মতো করে আড্ডা–গানে সময় কাটিয়েছি।’
.
তৌসিফের স্মৃতিবিজড়িত লালাখাল
তৌসিফের কাছে সিলেটের এই জায়গাটা স্মৃতিবিজড়িত। এখানেই কেটেছে তাঁর গানের ক্যারিয়ারের শেষ দিন; অন্যদিকে নাটকের ক্যারিয়ার শুরু। তৌসিফ বলেন, ‘তখন আমাদের ব্যান্ড ছিল। গান করতাম। ঢাকার বাইরে কনসার্ট থাকত। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে এই লালাখাল থেকে গান করে, সারা রাত বাসে জার্নি করে ঢাকার বাসায় ফিরি; আর ফিরেই ভোর চারটার দিকে আমার ক্যারিয়ার শুরুর নাটক অলটাইম দৌড়ের ওপর নাটকের শুটিংয়ে আবার এই লালাখালে এসেছিলাম। এই জায়গা একটি ক্যারিয়ারের শেষ আর আরেকটির শুরু। যে কারণে জায়গা স্মৃতিকাতর করেছে।’
সাফার প্রকৃতিক ওষুধ
বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির এমন সুযোগ কখনোই হারাতে চান না সাফা। বন্ধুদের কাছে প্রস্তাব পাওয়া মাত্র রাজি হয়ে যান। সাফা জানান, আদনান আল রাজীবের অলটাইম দৌড়ের ওপর নাটকের শুটিং থেকেই তৌসিফের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব। একসঙ্গে তাঁরা অভিনয় করেন। অন্যদিকে সুপার গার্লস ধারাবাহিক নাটকের শুটিং থেকে মুমতাহিনা টয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দুজনই এখন তাঁর কাছের বন্ধু। তাঁদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে সাফা বলেন, ‘দারুণ একটা ট্যুর ছিল। আমি লালাখালের এমন নীল পানি সেন্ট মার্টিন ছাড়া আর কোথাও দেখিনি। পরিবেশটা অসাধারণ। বিশেষ করে এখানে এসে প্রকৃতির সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে। আমি আর টয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যোদয় দেখেছি, ঘুরেছি। সিয়ামকে মিস করলাম। তাঁকে সুন্দর মুহূর্তের ভিডিও পাঠালাম। আমার কাছে এটা ছিল মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার জার্নি। মনে হলো বয়স কমে গেছে। সময়গুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে। ভাবছি, প্রতিমাসে একবার এখানে আসতে পারলে এটা আমার জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করত।’
.
টয়ার হাসি যেন থামে না
তৌসিফ ও টয়া নাকি সারাক্ষণ সাফাকে নিয়েই মেতে ছিল। মজার মজার জোকস ঘিরে তাঁদের আড্ডায় জমেছিল তিন দিন। নানা ঘটনা ঘিরে টয়ার হাসি যেন আর থামে না। হাসতে হাসতে তাঁরা নাকি ঠিকমতো ছবিও ওঠাতে পারেনি। টয়ার সঙ্গে স্বামী অভিনেতা সৈয়দ জামান শাওন ছিলেন। টয়া বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সুন্দর পোজ দেওয়ার চেয়ে হাসি থামানো অনেক বেশি কঠিন। শেষ পর্যন্ত সুন্দর পোজের চেয়ে হাসতে হাসতে তোলা ছবির সংখ্যাই বেশি হয়; কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—পরে এই ছবিগুলো দেখেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।’ একই কথা বললেন সাফা। তাঁর কথায়, ‘আমরা সব সময় অনেক আনন্দে ছিলাম। হাসি–ঠাট্টা করেছি। সেসব ছবিও ফেসবুকে দিলাম। সবাই পছন্দ করেছে। এখন ভয় হচ্ছে, আমাদের আবার কেউ নজর না দেয়।’ বলেই হাসলেন এই অভিনেত্রী।
.‘ঠিকানা’–এর শিডিউল না দেওয়ার অভিযোগে প্রযোজকের নোটিশ, রাজের জবাব.
‘আমরা বন্ধুর চেয়েও বেশি’
এক যুগের বেশি সময়ের বন্ধুত্ব। এই সময়ে সম্পর্কের মধ্যে উত্থান–পতন থাকলেও সেটি সম্পর্ককে আরও বেশি মজবুত করেছে বলে জানান সাফা কবির, ‘একদমই শুরু থেকে আমাদের হয়তো কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতো; কিন্তু সেটি সম্পর্ককে সত্যকার একটা জায়গায় নিয়ে গেছে। এখন আমরা বন্ধুর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। বলা যায়, পরিবারের অংশ। টয়া, তৌসিফ, সিয়াম আমার কাছে স্পেশাল।’
এ সময় তৌসিফ জানান, তাঁরা আমার জন্য আস্থার একটা জায়গা। অনেক বন্ধুই তো হয়; কিন্তু তারা আলাদা। ‘নানাভাবে ওরা বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। যেমন বিমান থেকে নামার সময় ওরা আমাকে লাগেজ নেওয়ার দায়িত্ব দিল। এ সময়ে ওরা আমার জন্য সিলেট শহর থেকে কেকসহ সারপ্রাইজিং বেশ কিছু জিনিস নিয়েছে। আমি কিছুই জানতাম না। আমাদের মধ্যে সব সময় সারপ্রাইজ দেওয়ার চেষ্টা থাকে।’
সিলেট থেকে ফিরেই শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
























