
মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা এবং দেড় শ ভরি সোনা ডাকাতির মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা ও সোনা ডাকাতির অভিযোগে হওয়া মামলায় আজ সকালে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গোলাম জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
.
এর আগে একই সঙ্গে দুটি মামলায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মারুফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডাকাতির পাঁচটি সোনার বার জব্দ করা হয়েছে। তবে সোনা ডাকাতি ও যুবদল নেতা শাকের হত্যার ঘটনা সম্পর্কিত কি না, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি পুলিশ।
গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯)। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
.
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাকের হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের আগে ঘটনার পরদিন রাতে রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
এ ছাড়া ২৭ অক্টোবর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ঝিনাইদহের অনিমেষ মজুমদার (৫৫) নামের এক সোনা ব্যবসায়ীকে। তিনি ঝিনাইদহের গীতাঞ্জলি সড়কের গিনি হাউস নামে একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাঁরা এখন কারাগারে।
.
মাগুরা সদর থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মজিবর রহমান নামের এক ব্যক্তি সোনা ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা করেন।
মামলা থেকে জানা যায়, ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মাগুরা সদর থানাধীন রামনগর বাজার এলাকায় সোনা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাদী মজিবর রহমান একজন সোনা ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন তিনি ঢাকার এক সোনা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫০ ভরি সোনা সংগ্রহ করে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদারের (বর্তমানে যুবদল নেতা হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন) কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ উদ্দেশ্যে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে রওনা দেন মজিবর।
.
মামলায় বলা হয়, বাসটি মাগুরার রামনগর বাজারে পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয়ে বাস থামিয়ে মজিবর রহমানকে জোর করে নামিয়ে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে যায়। ডাকাতেরা তাঁর কাছে থাকা সোনা বের করে দিতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করে। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তাঁর ডান কাঁধে লাগে এবং হাড় ভেঙে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ডাকাতেরা এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে মজিবরের প্যান্টের বেল্টের নিচে তৈরি পকেট থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যমানের ১৫০ ভরি তেজাবি (স্বর্ণের গুঁড়া জমিয়ে তৈরি) সোনার দণ্ড এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মজিবর রহমানের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
.
এ বিষয়ে মো. মজিবর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পর আমি নিকটস্থ নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। সেখান থেকে জানানো হয়, এটি মাগুরা সদর থানার মধ্যে পড়েছে। এরপর মাগুরা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিই। ওখানে আমার আপনজন কেউ না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে আসি। পরে ১৫ অক্টোবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসি।’
এদিকে মাগুরা সদর থানার নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২৮ অক্টোবর রাতে মাগুরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ মামলায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.