
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। ইমরান দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার এবং সাব্বির একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার বাসিন্দা।
.সীমান্তে অপরাধ খুঁজতে গিয়েই সন্ত্রাসীদের নিশানা হন সাংবাদিক আলিফ.
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে নেত্রকোনায় আনার পর আদালতে পাঠানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের সহযোগী। হত্যাকাণ্ডে তাঁদের সম্পৃক্ততা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাঁদের দুজনকেই পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন।
.সীমান্তে অপরাধ খুঁজতে গিয়েই নিশানা হন আলিফ.
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইমন ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ। আলিফের ওপর গত ১৫ নভেম্বর যে হামলা হয়, সেই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ইমরান। এ ছাড়া হত্যা মামলার তদন্তে ইমরানের নাম উঠে আসে। ইমরান ও সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা আছে।
.
এদিকে সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা শহরে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকেরা। শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, নেত্রকোনা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
.‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ.
১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজার-সংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নিহত হন। ঘটনার পরদিন আলিফের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
নিহত আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।
.‘ভাইকে ফিরে পাব না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’, মানববন্ধনে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামানের ভাই
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.