
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোঙ্গম রিনাকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছে অরুণাচল প্রদেশ প্রেসক্লাব (এপিসি) এবং অরুণাচল প্রদেশ ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস (এপিইউডব্লিউজে)। ২২ অক্টোবর পাসিঘাটে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে ওই এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়। সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশ আদালতে তল্লাশি পরোয়ানার আবেদন করে। সেই তালিকায় সাংবাদিক রিনার নাম থাকা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবি এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পেশার সঙ্গে যুক্তদের ভয় দেখানোর জন্যই তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। তোঙ্গম রিনা ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর পদে কর্মরত।
.
ইস্ট সিয়াং জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে পুলিশ মোট চারজনের বাড়িতে তল্লাশির অনুমতি চায়। সেই তালিকায় দুই সক্রিয় আন্দোলনকর্মী, এক আইনজীবী এবং সাংবাদিক রিনা রয়েছেন। পুলিশ তাঁদের মোবাইল, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার অনুমতি চেয়েছিল।
রিনা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের হুমকিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু তারা সমস্যা এড়াতে পারবে না, কারণ বিষয়টি শুধু আমাকে নিয়ে নয়। সাংবাদিকতা যদি অপরাধ হয়, সক্রিয়তা যদি অপরাধ, তবে যারা রাষ্ট্রের কলকবজা ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ায়, তারা কারা?’
.
সংবাদমাধ্যম সংগঠনগুলো যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করা বা সরকারকে প্রশ্ন করাকে অপরাধমূলক কাজ বলা যায় না। তা ছাড়া কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া একজন নিরপেক্ষ সাংবাদিককে তদন্তের আওতায় আনা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাসিঘাটের সহিংসতা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে উভয় সংগঠনই সমর্থন করে না। তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা দমন করার জন্য তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত নয় বলে তাদের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।
দুই সাংবাদিক সংগঠনের তরফে রাজ্য সরকার ও পুলিশের কাছে ঘটনার স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশি তালিকায় রিনার নাম যদি ভুলভাবে যুক্ত করা হয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত সংশোধনের দাবিও উঠেছে।
.
পুলিশ এই ঘটনায় মোট আটটি মামলা করেছে এবং ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বাধা দিলে কড়া আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে সংগঠনগুলো।
রিনার ওপরে বড় ধরনের হামলা হয়েছে, তাঁর সাংবাদিকতার কারণে। ২০১২ সালের জুলাই মাসে, ইটানগরে ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ কার্যালয়ের বাইরে পেছন থেকে রিনাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা। গুলিটি তাঁর পেটে বিদ্ধ হয়ে অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মেরুদণ্ডে আঘাত করে। পরে তাঁকে অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.