
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটানোর ঘটনায় ছাত্রদলের সেই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে দলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন উপজেলার দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক লোকমান হোসেন ও সদস্যসচিব ইকরাম মাহমুদ।
অব্যাহতি পাওয়া ছাত্রদল নেতার নাম শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ। তিনি দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।
.
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার অধীন দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক, দ্বাদশ শ্রেণি ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সাহেদকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
এর আগে গত রোববার রাতে শহিদুল ইসলাম সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জুয়েল হোসেনকে মারধর করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে জুয়েল হোসেনকে চেয়ার দিয়ে পেটাচ্ছেন শহিদুল ইসলাম। পাশাপাশি তিনি জুয়েল হোসেনকে কিল-ঘুষি ও লাথি দেন। এতে জুয়েল হোসেন রক্তাক্ত হন।
.
দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল ও জুয়েলের মধ্যে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে রোববার বিকেলে মারামারি হয়। রাতে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য জুয়েল হাসপাতালে আসেন। এ সময় শহিদুল তাঁর অনুসারীদের নিয়ে এসে হাসপাতালের সামনেই জুয়েলকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর থেকে বাঁচতে জুয়েল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষে ঢুকলে সেখানে শহিদুল আসেন। সেখানেও তাঁকে আরেক দফায় মারধর করা হয়।
.জরুরি বিভাগে চেয়ার দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা, ভিডিও ভাইরাল.
অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত ওরফে সৌরভ জানান, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শহিদুলকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তাঁদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর থেক এ বিষয়ে জানতে শহিদুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.