
ছেলের মাদকাসক্তি ছাড়াতে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল, দুবার ভর্তি করা হয়েছিল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। তবু আসক্তি দূর হয়নি তাঁর। স্বজনদের অভিযোগ, নেশার ঘোরে ছেলে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন। ঝগড়া থামাতে গেলে বাবাকে তাড়া করেন তিনি। প্রাণ বাঁচাতে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি বাবা। ছেলের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে ছেলে পলাতক।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাইটালিয়া গ্রামের বন্নাভিটা এলাকায় গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুস সামাদ (৬০)। অভিযুক্ত তাঁর একমাত্র ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)।
.
স্বজনদের ভাষ্য, রোববার গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান আনোয়ার। ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান সামাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার বাবার দিকে তেড়ে যান। ভয়ে সামাদ দৌড়ে প্রতিবেশী মো. শহীদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে গিয়ে বাবার ওপর হামলা চালান আনোয়ার। লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে সামাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভোর চারটার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
.
আবদুস সামাদ প্রায় ১৮ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ওই সময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন ছেলে আনোয়ার। প্রায় ১০ বছর আগে দেশে ফেরেন সামাদ। ছেলেকে ভালো পথে আনার চেষ্টা করছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ছেলে বাবার প্রতি বিরক্ত ছিলেন।
.
সাইটালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে নেশা থেকে ফেরাতে পরিবার নানা চেষ্টা করেছে। সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। দুবার নিরাময় কেন্দ্রে এবং তাবলিগেও পাঠানো হয়। একবার মাদক মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন।
.
স্বজনেরা জানান, আবদুস সামাদ প্রায় ১৮ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ওই সময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন ছেলে আনোয়ার। প্রায় ১০ বছর আগে দেশে ফেরেন সামাদ। একটি পিকআপ কিনে নিজেই সেটি চালাতেন। মাদকাসক্তির বিষয়ে জানার পর থেকেই ছেলেকে ভালো পথে আনার চেষ্টা করছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বাবার প্রতি বিরক্ত ছিলেন আনোয়ার।
স্বজনদের অভিযোগ, তিন বছর আগে আনোয়ার মারধর করে তাঁর মায়ের হাত ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি (আনোয়ার) কোনো কাজ করতেন না। তাঁর তিন সন্তান। সংসার ও সন্তানদের লালন–পালনের দায়িত্বও পালন করতেন বাবা সামাদ।
পলাতক আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে জানিয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.