
ভারতে নারীর বিরুদ্ধে করা অপরাধে সবচেয়ে বেশি অভিযুক্ত হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সংসদ সদস্য ও বিধায়কেরা। ভারতে নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গবেষণা করে এমন একটা সর্বভারতীয় সংস্থা এক সমীক্ষায় এমন তথ্য জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট ১৮৭ জন বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিধায়কের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর নির্যাতনের মামলা রয়েছে।
বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে ভারতের জনপ্রতিনিধিদের অপরাধমূলক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এই সমীক্ষায় দেশের ৭৭২ জন সংসদ সদস্য এবং ৪ হাজার ১০৯ জন রাজ্য বিধায়কের হলফনামা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যের সর্বোচ্চ ৬৯ জন সংসদ সদস্য ও বিধায়কের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
.
তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ। সেখানে নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ২২ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ওড়িশায় এই সংখ্যা ১৭।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি অপরাধের মামলা রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। এই দলের ১০৬ জন সংসদ সদস্য ও বিধায়কের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের ২০ জন এবং তৃতীয় স্থানে থাকা তেলেগু দেশম পার্টি বা টিডিপির ১৮ জন জনপ্রতিনিধি এই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত। তবে দলীয় সংসদ সদস্য ও বিধায়কের সংখ্যার শতকরা হিসাবে বিচার করলে এই হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে টিডিপিতে, যা প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এরপরই রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যাদের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ক্ষেত্রে এই হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
.
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো ১৮৭ জনের মধ্যে ১৪ জন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এই ১৪ জনের মধ্যে ২ জন লোকসভার সাংসদ এবং ১২ জন বিধায়ক। দলগতভাবে বিজেপি এবং কংগ্রেসের ৪ জন করে সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া টিডিপি, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেডি, এনপিপি, ভারত আদিবাসী পার্টি এবং অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্টের একজন করে বিধায়কের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রয়েছে।
.
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এডিআর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, অপরাধমূলক প্রেক্ষাপট থাকা ব্যক্তিদের ভোটে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করা উচিত। পাশাপাশি ধর্ষণের মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আজীবন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বাদ দেওয়া দরকার। শুধু তা–ই নয়, যাঁদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কোনোভাবেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছে এডিআর। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রার্থীর অপরাধের রেকর্ড প্রকাশ না করলে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানা করা উচিত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এডিআর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, অপরাধমূলক প্রেক্ষাপট থাকা ব্যক্তিদের ভোটে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করা উচিত। পাশাপাশি ধর্ষণের মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আজীবন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বাদ দেওয়া দরকার। শুধু তা–ই নয়, যাঁদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কোনোভাবেই মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছে এডিআর। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রার্থীর অপরাধের রেকর্ড প্রকাশ না করলে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানা করা উচিত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.