
চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আজ বুধবার সকাল আটটা থেকে তাঁদের এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় দূরদূরান্তের রোগী ও স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়েন।
হাসপাতালে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে এসেছেন মুক্তা আক্তার। তাঁর বাবা হৃদ্রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসক না থাকায় এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র না পেয়ে বিপাকে পড়েন বলে জানান তিনি। মুক্তা বলেন, ‘এখন আমরা কী করব? আমার বাবাকে কী খাওয়াব, কোন ওষুধ দেব?’
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আছে—প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার, রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
.
দুপুরে কর্মবিরতির কারণ ও দাবিদাওয়া তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বেতন বাড়ানোর জন্য তাঁরা কর্মবিরতি ডাকেননি। দুই থেকে তিন মাস ধরে হাসপাতালে ক্যানুলা, মাইক্রোপোর, সাধারণ স্যালাইন ও সিরিঞ্জের মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট চলছে। খিঁচুনিতে আক্রান্ত নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধও অনেক সময় হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে ওষুধ আনতে গিয়ে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় রোগী ও স্বজনদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও হুমকির মুখে পড়ছেন।
সংগঠনটির সভাপতি শাহাদাত মাহমুদ বলেন, ১ হাজার ৩০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ ও ওষুধের সরবরাহ নির্ধারিত শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী আসে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসাসামগ্রী ও জনবলের সংকট তৈরি হচ্ছে। অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ আরও বাড়ছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলেন, সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দাবিগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
.
১ নভেম্বর ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির নিয়ে বেলা পৌনে দুইটার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহম্মেদ। তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তিনটি মেনে নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক। ক্যাজুয়ালটি বিভাগ আগামী ১ নভেম্বর চালুর পরিকল্পনা আছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র বলেন, প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসাসামগ্রী ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্যালাইন ও সিরিঞ্জের ঘাটতি ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। অন্যান্য ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর কিছু সরবরাহ এসেছে। বাকিটা আসতে প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে। এ সময় সংকট এড়াতে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
.
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারে আরও ১০০ জন আনসার সদস্যের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা জানানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১৩৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি বিভাগের সামনে পুলিশ বক্স নির্মাণের কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি চালু হতে পারে বলে জানান মুখপাত্র। তিনি বলেন, রোগীর সঙ্গে দুজনের বেশি স্বজন প্রবেশ না করার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে আনসার ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করে কেউ প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যে চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে চিকিৎসা কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন ও রোগীদের নিয়মিত ফলোআপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র। কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন করা হাসপাতাল প্রশাসন সমর্থন করে না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.