
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার বিকেলে তাঁকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় আজ সোমবারও শুনানি হয়নি। পরে সুমনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়াসহ এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে জাহিদ ছাড়া অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। পরে সেখান থেকে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখ করে ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, রোববার বিকেলে জাহিদকে আদালতে তোলা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় যাওয়ায় রিমান্ড শুনানি হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিমন ঘোষ বলেন, নিহত ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা নিয়ে তিনি ঢাকায় আছেন। মঙ্গলবার কক্সবাজারে ফিরে জাহিদকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের শুনানিতে অংশ নেবেন। আগুন লাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা চার আসামি হলেন রিসোর্টের মালিক ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীর বাসিন্দা মো. তানভীর সুলতান মিয়া (৩৮), প্রধান ব্যবস্থাপক বরিশালের সাঈদ আহমদ (৩২), ব্যবস্থাপক উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ সাইদ (৩০) এবং সহকারী ব্যবস্থাপক চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জাহিদ হোসেন (২৯)। রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর কর্মরত আরও ১৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম এজাহারে নেই।
এ বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, রিসোর্টের মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। আত্মগোপনে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। শনিবার তল্লাশি চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আবার তল্লাশি চালানো হলেও আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.