
শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধ শাণিত করতে বিতর্কচর্চার বিকল্প নেই। বিতর্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়কে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে শেখে এবং নিজের চিন্তাকে যুক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করার সক্ষমতা অর্জন করে। তাই শুধু স্কুল বা কলেজজীবনেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কিংবা পরবর্তী সময়েও বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।
ভৈরব বন্ধুসভার বিতর্ক কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন আলোচকেরা। ৬ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভৈরবের চণ্ডীবের এলাকার ব্লু বার্ড স্কুলের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রথম আলো ভৈরবের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমন মোল্লা বিতর্কে নৈতিকতার বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একজন বিতার্কিকের আচরণে শালীনতা, সৌজন্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মান থাকা জরুরি। প্রতিপক্ষকে কখনোই শত্রু হিসেবে দেখা যাবে না। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তীব্র যুক্তির লড়াই হবে, মতের অমিল থাকবে, যুক্তির আদান–প্রদান হবে; সেই লড়াই হবে শৈল্পিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। বিতর্কের মঞ্চে মতের ভিন্নতা থাকলেও দিন শেষে সবাই একে অপরের বন্ধু—এই মানসিকতা একজন প্রকৃত বিতার্কিকের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।’
‘কেন বিতর্ক করি’—এই প্রশ্নের জবাবে ভৈরবের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিতর্ক সুহৃদ মতিউর রহমান বলেন, সুন্দরভাবে চিন্তা করতে শেখা এবং একজন দক্ষ বক্তা হয়ে ওঠার জন্য বিতর্কের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্ক মানুষের চিন্তাকে শাণিত করে এবং কথা বলার দক্ষতা বাড়ায়।
তর্ক ও বিতর্কের পার্থক্য তুলে ধরে মতিউর রহমান বলেন, ‘তর্কের উদ্দেশ্য অনেক সময় নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা হলেও বিতর্ক মূলত কথা বলার ও কথা উপস্থাপনের একটি শিল্প। একজন বিতার্কিককে শুধু নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেই হবে না, যুক্তি ও উপস্থাপনার মাধ্যমে শ্রোতা ও বিচারকদের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।’
তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির বিতর্ক ও কর্মশালাবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মারুফ আহমেদ বিতর্কের গঠন ও একজন বিতার্কিক কীভাবে নিজের বক্তব্য সাজাবেন, তা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রমিত উচ্চারণে স্পষ্টভাবে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন বিতার্কিককে নিজের বক্তব্য ও অবস্থান পরিষ্কারভাবে বোঝাতে হবে।’ বিতর্কে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বক্তার ভূমিকা কী হবে, কীভাবে দলের বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে সাজাতে হবে এবং কে কোন বিষয় তুলে ধরবেন—এসব বিষয়ও তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
এর আগে ভৈরব বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান। কর্মশালাটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করায় উপজেলা প্রশাসন এবং ভেন্যু সহযোগিতার জন্য ব্লু বার্ড স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।
কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়াংকা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া নেন। অংশগ্রহণকারীরা ভৈরব সরকারি কাদির বকস পাইলট মডেল হাইস্কুল, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয়, ভৈরব পৌর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কমলপুর হাজী জহির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়, এমবিশন পাবলিক স্কুল, গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমি, ভৈরব শাখা ও ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থী।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি নাহিদ হোসাইন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, সহসভাপতি আফিসা আলী, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোশারফ রাব্বি, অর্থ সম্পাদক মাজহারুল ইফতি, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক নুরাইন হোসাইন, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ভুবন আহমেদ, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, বন্ধু আদিব, ইমরান, অভিক, মারুফ, রাকিব, রাত্রি, তমা, গোধুলী, লোভনাসহ আরও অনেকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.