
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে বালু উত্তোলনে সৃষ্ট গভীর গর্তে পড়ে হাসিব (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে হাসিবের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা।
এর আগে দুপুরে উপজেলার পুরাতন বন্দর স্লুইসগেট এলাকার কাটাখালী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসিব উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বকচর মধ্যপাড়া গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে। সে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার প্রধানপাড়া খানাবাড়ী এলাকায় নানার বাড়িতে থাকত।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নদীর পাড়ের মাঠে পাঁচ বন্ধু মিলে ফুটবল খেলছিল। খেলা শেষে তারা কাটাখালী নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে নামার পর বালু উত্তোলনের কারণে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তে পাঁচজনই পড়ে যায়। চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও হাসিব পানির গভীরে তলিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা নদীতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়ভাবে ডুবুরি দল না থাকায় রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিট অভিযান চালিয়ে নদীর গভীর পানির নিচ থেকে হাসিবের মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পানির নিচে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত বাইরে থেকে বোঝা না যাওয়ায় নদীতে গোসল করতে নামা মানুষ, বিশেষ করে শিশু-কিশোররা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বালু উত্তোলনের কারণে তৈরি হওয়া এমন মরণফাঁদের দায়ভার কে নেবে? তাদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি নদীতে তৈরি হওয়া গভীর গর্তগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা বলেন, ‘পাঁচ বন্ধু নদীতে গোসল করতে নেমেছিল। বালু উত্তোলনের কারণে সৃষ্টি হওয়া গভীর গর্তে পড়ে চারজন উঠে আসতে পারলেও হাসিব পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দল এসে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.