
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে রোগীসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শুনে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্ত্রী হাসপাতালে প্রবেশ করার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রত্যাশীরা হাসপাতালের মূল ফটকে জড়ো হয়ে বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের খাবার ও ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবাসামগ্রী থাকলেও অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত লোকজনের অভিযোগ শোনেন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, 'হাসপাতালে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভাঙা হবে। হাসপাতাল ঘুরে দেখছি, এখানে অনেক কিছুর গাফিলতি আছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন শুরু হবে। আপনারা দেখতে পাবেন। হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বৈরাচারী আচরণ করতে পারবে না। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।'
এরপর মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের মান এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। তিনি ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ এবং হাসপাতালের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।
এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্ত্রী আকস্মিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে কুকুরে কামড়ানো এক রোগীকে সরকারি অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন না দিয়ে বাইরে থেকে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসককে সতর্কীকরণ (ওয়ার্নিং) দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.