
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে মাত্র ৭ হাজার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিপুল প্রামাণিক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে পাঁচ দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন, এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও থানায় দেওয়া লিখিত এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক উপজেলার খোর্দ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ মোজাহিদপুর গ্রামের মৃত এতাজল হক প্রামাণিকের ছেলে। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ঘেগার বাজার (খোদা বকস) গ্রামের মৃত সৈয়দার সরকারের ছেলে।
লিখিত এজাহার, ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন বিপুল প্রামাণিক। পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও আরিফুল ইসলাম পুনরায় একই টাকা দাবি করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে শাহানুর মিয়ার সুপারি বাগানসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা আরিফুল ইসলাম, নিশাত মিয়া, আপেল মিয়া, ফারুক মিয়া, ফুল বাবুসহ ১০ থেকে ১২ জন তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম এলাকায় নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রাখা হয়। ওই সময় তার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাঠি, লোহার রড ও শাবল দিয়ে মারধরের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে বারবার বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অপহরণকারীরা তার মেয়ে বিথি আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের পাঁচটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও কয়েকটি সাদা কাগজে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ মে বিকেলে অভিযুক্তরা তাকে খোর্দ্দ কোমরপুর বাজারে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শরীরে বৈদ্যুতিক শকের আলামত পান বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় বিপুল প্রামাণিক সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে আরিফুল ইসলাম, নিশাত মিয়া, আপেল মিয়া, ফারুক মিয়া, ফুল বাবুসহ আরও ৫ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রায় দুই মাস পার হলেও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
ভুক্তভোগী বিপুল প্রামাণিক বলেন, 'আমাকে পাঁচ দিন আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। শরীরে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। থানায় লিখিত এজাহার দেওয়ার পরও মামলা হয়নি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।'

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.