
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে পৃথক চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারের অভিযোগে এক দম্পতি, একটি জিপের চালকসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল টয়োটা জিপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানা পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার চুনতি ও আমিরাবাদ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় স্থাপিত চেকপোস্টে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি টয়োটা জিপকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে। পরে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহর নির্দেশনায় থানার সামনে মহাসড়কে কৌশলগত ব্যারিকেড স্থাপন করে গাড়িটি আটক করা হয়।
পরে জিপটির ইঞ্জিনের বাম পাশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার তল্লাশি করে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আল মামুন (৪০), তার স্ত্রী ইসমাত জেরিন (৩৮) এবং গাড়িচালক মোহাম্মদ আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আল মামুনের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
একই দিন বিকেলে আমিরাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী মো. সিদ্দিককে (৪৮) সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার শরীর থেকে ৭৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে চুনতি এলাকায় অপর একটি চেকপোস্টে ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের গিয়ার বক্সের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক ইলিয়াছ হাবিবকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া দিবাগত রাত ২টার দিকে একই এলাকায় হানিফ পরিবহনের আরেক যাত্রী মিজানুর রহমানের (২৯) দেহ তল্লাশি করে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পৃথক চারটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্যবহার করে কোনো মাদকচক্র যাতে ইয়াবা পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।”
সোমবার সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.