
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আধুনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করায় শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পানিতে তলিয়ে গেছে। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যসংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের বরাদ্দকৃত মোট সাড়ে ৩ (৩.৫) টন চাল লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে(১২জুলাই) রোববার বন্যাদুর্গত ৩৫০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন। তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ নাজিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতা এবং লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ বায়জিদ বিন আখন্দের নির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এ খাদ্য সহায়তা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের হাতেই ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা শওকত আহমদ। তিনি বিতরণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি দুর্যোগকালে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের উপকারভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে আধুনগর ৯নং ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গবাদিপশুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি খাদ্য সহায়তা দুর্গত মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ত্রাণ গ্রহণকারী উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বন্যার কারণে কয়েকদিন ধরে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ ছিল। ফলে সরকারি এ খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.