
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার শোক ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করে গাইবান্ধায় সুন্দরগঞ্জে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও ব্যাপক সমাগম ঘটে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল থেকে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়। ঢাক ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে লাঠি খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন। তাদের দক্ষতা, কৌশল এবং শারীরিক শক্তিতে দর্শকরা মুগ্ধ হন।
খেলার সময় প্রতিপক্ষের আঘাত প্রতিহত করে পাল্টা আক্রমণের দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খেলার মাঠ করতালি ও উত্তেজনায় ভরে ওঠে।
স্থানীয়রা বলেন, লাঠিখেলা শুধু বিনোদনের একটি মাধ্যম নয়, এটি বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বীরত্বের প্রতীক। এই ধরনের অনুষ্ঠান চলতে থাকলে বিলুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে।
লতিফুর রহমান লিয়ন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, 'লাঠিখেলা আমাদের গ্রামীণ বাঙালি ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও আমরা ছোটবেলায় নিয়মিত এই খেলাটি দেখতাম, এখন এর আয়োজন খুব কমই হয়। এই ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে আমাদের লোক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করবে।'
লাঠিয়াল দুলু মিয়া বলেন, 'আশুরার পবিত্র দিনে কারবালার ত্যাগ, সাহস ও সত্যের চেতনাকে স্মরণ করে আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়ে আসছে। এটি শুধু বিনোদনই নয়, আমাদের ঐতিহ্য ও বীরত্বেরও প্রতীক। আমরা চাই এই সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাক।'
লাঠিয়াল শাহ আলম ও গামির উদ্দিন বলেন, 'আশুরার দিনে লাঠি খেলার আয়োজন করা আমাদের এলাকার একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আগে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এই খেলা অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু এখন তা অনেক কমে গেছে। এই ঐতিহ্য বজায় রাখতে নিয়মিত অনুষ্ঠান এবং তরুণদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।'
আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ বাংলার একসময়ের এই জনপ্রিয় লোকখেলাটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.