
গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পুরাতন ব্রিজের ল্যাম্পপোস্টগুলোর অধিকাংশ বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে থাকায় সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো ব্রিজ। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন গাইবান্ধার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসহ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার যানবাহন ও পথচারী চলাচল করলেও নিরাপদ যাতায়াতের ন্যূনতম আলোর ব্যবস্থাও নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে ল্যাম্পপোস্টের বাতিগুলো নষ্ট হয়ে থাকলেও তা মেরামত বা প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই ব্রিজে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্ধকারের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের ভয়ও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের (৩৪) বলেন, ‘সন্ধ্যার পর পুরাতন ব্রিজ এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে। ক্রেতারা অনেক সময় নিরাপত্তার কারণে এ পথ এড়িয়ে চলেন। দ্রুত লাইটগুলো মেরামত করা প্রয়োজন।’
রিকশাচালক মো. হেলাল মিয়া (৩৭) বলেন, ‘প্রতিদিন রাতেও এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করি। অন্ধকারে অনেক সময় গর্ত বা ভাঙা অংশ দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। যাত্রীদের নিয়েও ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়।’
পথচারী নুসরাত জাহান (২৮) বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও নারীদের জন্য ব্রিজের অন্ধকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর। সন্ধ্যার পর একা হেঁটে যেতে ভয় লাগে। নিরাপদ চলাচলের জন্য দ্রুত আলো স্থাপন করা দরকার।’
এদিকে ব্রিজটি পুরোনো হওয়ায় পাশের ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে এসব স্থান রাতের বেলায় পথচারীদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত ল্যাম্পপোস্টের নষ্ট বাতিগুলো পরিবর্তন করে নতুন বাতি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামান্য উদ্যোগ নিলেই গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের অন্ধকার দূর করা সম্ভব।
জেলা শহরের প্রবেশমুখের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজে কবে জ্বলবে আলোর বাতি, কবে দূর হবে দীর্ঘদিনের অন্ধকার আর কবে নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন সাধারণ মানুষ, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, পুরাতন ব্রিজটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের আওতাভুক্ত। ল্যাম্পপোস্টের বাতি স্থাপন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সওজের অগ্রাধিকার দায়িত্ব রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে পৌরসভাও সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কাছে পর্যাপ্ত বাল্ব মজুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পৌরসভা নিজ উদ্যোগে বাতিগুলো পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তবে এ বিষয়ে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.