
দেশের উন্নয়ন বাজেটে কৃষিখাতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দসহ কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে গাইবান্ধা শহরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহরের ১নম্বর রেলগেটে সমাবেশে মিলিত হন নেতাকর্মীরা।
সংগঠনের জেলা সভাপতি গোলাম ছাদেক লেবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবীব সাঈদ, জেলা সংগঠক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, ডাক্তার আব্দুল জব্বার, কমরেড আয়নাল হক, শাহজালাল তোতা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও কৃষকরা এখনো ন্যায্য মূল্য ও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। তারা দাবি করেন, কৃষি খাতকে শক্তিশালী না করলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলুসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে নিয়মিত ক্রয় কেন্দ্র চালু, প্রতিটি ইউনিয়নে খাদ্য গুদাম ও জেলায় হিমাগার নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এছাড়া কৃষি ঋণ মওকুফ, সহজ শর্তে বিনাসুদে ঋণ প্রদান, এনজিও ও মহাজনি ঋণের শোষণ বন্ধ, কিস্তি আদায়ের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি তোলা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে হেলথ সেন্টারে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ সরবরাহ, সরকারি অফিসগুলোতে ঘুষ ও হয়রানি বন্ধ, ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা এবং কর্মসৃজনসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রাখতে হবে।
তারা হাটে অতিরিক্ত ইজারা জুলুম বন্ধ, পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং নিরসন, খাস জমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ, এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপনের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.