
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সোমবার (৪ মে) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়ানো হলে ইরান কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে—এ বিষয়টি ইরান ভালো করেই জানে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান তার সক্ষমতার প্রকৃত শক্তি এখনো দেখায়নি। তার ভাষায়, “এই অঞ্চলে ইরানের খেলা এখনো শুরুই হয়নি।”
ইরানের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, সোমবার তাদের AH-64 Apache ও Sikorsky SH-60 Seahawk হেলিকপ্টার ইরানের ছয়টি স্পিডবোটে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ওই ইরানি নৌযানগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল। এছাড়া মার্কিন বাহিনী তাদের দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে। একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের ভূখণ্ডে নতুন করে ইরানি হামলার অভিযোগ করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলায় একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী নিরপেক্ষ দেশগুলোর জাহাজ নিরাপদে বের করে আনতে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এই ঘোষণার পরপরই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। মূলত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ বা ‘মেরিটাইম ব্লকেড’ আরোপের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এই উত্তেজনা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে। বর্তমানে উভয় পক্ষই উচ্চ সতর্কতায় অবস্থান করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.