ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পৃথিবী বস্তুকে নিজের কেন্দ্রে টানে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দেখা তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড চাইল পুলিশ দূষণযুক্ত যান নিষিদ্ধ করার ফলে দিল্লিতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আদালত অবমাননার অভিযোগ, আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুর ও সাভারে অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি এআই-স্মার্ট স্পিকার কি সবই শোনে? উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি তাহসিফের, নিশ্চিত করল পিবিআই পম্পেইয়ের আলমারিতে সুগন্ধির শিশি ও শিশুর গলার হার শিক্ষার্থীরা রাতে ঘরের বাইরে আড্ডা দিলে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ: চট্টগ্রামের ডিআইজি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পর জার্মানির একাধিক শহরে সহিংসতা

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম-এর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

শনিবার (২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই চার শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৭২ জন শিশুর শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে হামের উপসর্গে দেশে মোট ২৩৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪৯ জন। একই সময়ে ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশু এই রোগের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ২৬ হাজার ৯১১ জনকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবুও হাসপাতালে এখনও রোগীর চাপ কমেনি; রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সাধারণত উচ্চ জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা যায়। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যারা নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আসেনি, তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম-এর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

শনিবার (২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই চার শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৪ জন শিশুর শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৭২ জন শিশুর শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে হামের উপসর্গে দেশে মোট ২৩৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪৯ জন। একই সময়ে ৩৯ হাজার ৩২৫ জন শিশু এই রোগের লক্ষণ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ২৬ হাজার ৯১১ জনকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, চিকিৎসা শেষে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ২২৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবুও হাসপাতালে এখনও রোগীর চাপ কমেনি; রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সাধারণত উচ্চ জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা যায়। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যারা নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আসেনি, তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। তাই দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।