
সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন লক্ষ্যে বাঁশিয়া খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কর্মী থাকবেন, যারা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য খাল খনন একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও কমবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে টিলা ও নদীবেষ্টিত সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি প্রাকৃতিক ছড়া সরাসরি সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির ফলে এসব ছড়া দিয়ে নদীর পানি উল্টো শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। গত কয়েক বছরের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা থেকেই এই খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে আধুনিক পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কাজীরবাজারের বৈঠাখাল, ছড়ারপাড়ের গোয়ালীছড়া এবং বোরহানউদ্দিন এলাকার হলদিছড়ায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প ও আধুনিক স্লুইস গেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নদীর পানি যাতে শহরে প্রবেশ করতে না পারে এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যায়, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে এবং নগরজীবনে স্বস্তি ফিরবে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.