
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী মো. ইউনুস আলী (৪৫) ও তার বড়ভাই মো. নুরুল ইসলামের (৬৮) বিরুদ্ধে। এতে শামসুন্নাহার বেগম (৪৭) নামের এক বিধবা নারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ঘটনাটি উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী মোছা. শামসুন্নাহার বেগম (৪৭) ওই এলাকার মৃত শফিউল আলমের স্ত্রী। অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউনুস আলী নিজপাড়া গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে ইউনুস আলী ও তার সহযোগীরা শামসুন্নাহার বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (পিটিশন মামলা নং-৬৬/২০২৬, এমআর মামলা নং-৬৬/২০২৬) মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জমিতে ১৪৪ ধারা জারি আছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এ নির্দেশ অমান্য করে গত ১১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইউনুস আলী ও নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে শামসুন্নাহার বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এমনকি সেখানে চুলা বসিয়ে আগুন জ্বালানো হচ্ছে, যা পাশের একটি কাঁঠাল গাছের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ভুক্তভোগী শামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘১৯৯১ সালে জমিটি ক্রয় করে তখন থেকেই ভোগদখলে আছি। হঠাৎ করে তারা মালিকানা দাবি করে মামলা করে। বর্তমানে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় আমরা জমিতে যাইনি। কিন্তু তারাই আইন অমান্য করে দখলের চেষ্টা করছে। আমি একজন অসহায় বিধবা, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইউনুস আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.