ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত, চূড়ান্ত পর্ব ২৮ নভেম্বর জমির বাণিজ্যিকীকরণে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা লংমার্চে হবে না, কমিটিতে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’ নায়ক শরীফুল রাজকে আইনি নোটিশ, ঘটনা কী পুরোনো বাস দিয়ে ছয় রুটে নতুন ব্যবস্থা চালু রোববার খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা, বেড়েছে ব্যাংকেও পল্টনে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, চালকের আসনে ছিলেন ছেলে মাস্টহেড পিআরের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড গ্রোথ অফিসার আশিক ইকবাল

সংস্কারে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করল আইএমএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় আগামী জুনের মধ্যে ঋণের অর্থ ছাড় করা সম্ভব নয়। উল্টো সংস্থাটি অতিরিক্ত কঠোর শর্তসাপেক্ষে একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে প্রত্যাশিত ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে না। বর্তমান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এখনো ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব খাতের সংস্কার, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং বাজারভিত্তিক মুদ্রার বিনিময় হার কার্যকর করার মতো শর্তগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। বিশেষ করে সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে সাবেক মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় আইএমএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে বাজেটের অর্থ ব্যয় না করে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল।

ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় এখনই বড় ধরনের সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময়। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গত তিন বছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির উত্তরোত্তর অবনতি ঘটেছে, যা অর্থনীতির জন্য মোটেই সুখকর নয়।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির উচ্চ ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়েছে। তবে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এখন বিশ্বব্যাংকের সাথে তুলনামূলক সহজ শর্তে বিকল্প অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের এই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় পেলেও বকেয়া কিস্তিগুলো নিয়ে এখন নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সংস্কারে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করল আইএমএফ

আপডেট সময় : ০২:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় আগামী জুনের মধ্যে ঋণের অর্থ ছাড় করা সম্ভব নয়। উল্টো সংস্থাটি অতিরিক্ত কঠোর শর্তসাপেক্ষে একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে অবস্থান করছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে প্রত্যাশিত ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে না। বর্তমান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এখনো ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব খাতের সংস্কার, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং বাজারভিত্তিক মুদ্রার বিনিময় হার কার্যকর করার মতো শর্তগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। বিশেষ করে সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করে সাবেক মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় আইএমএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে বাজেটের অর্থ ব্যয় না করে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল।

ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় এখনই বড় ধরনের সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময়। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গত তিন বছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির উত্তরোত্তর অবনতি ঘটেছে, যা অর্থনীতির জন্য মোটেই সুখকর নয়।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির উচ্চ ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়েছে। তবে আইএমএফের কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এখন বিশ্বব্যাংকের সাথে তুলনামূলক সহজ শর্তে বিকল্প অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের এই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় পেলেও বকেয়া কিস্তিগুলো নিয়ে এখন নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।