
দেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আবাসিকসহ সব ধরনের গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সঙ্গে পাইকারি (বাল্ক) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাবও তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই এসব প্রস্তাব বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মাসে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফলাইন বা প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য কোনো মূল্য বৃদ্ধি রাখা হয়নি।
পাশাপাশি পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভর্তুকি ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিবরাও কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটি বিদ্যুতের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে মন্ত্রিসভার কাছে সুপারিশ দেবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। তখন গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা মূল্য গড়ে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে পাইকারি মূল্য ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়িয়ে ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।
বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দুই বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম না বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং ভর্তুকির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। উচ্চমূল্য সত্ত্বেও এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যুতের গড় পাইকারি মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম উচ্চ অবস্থায় থাকলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.