
ইসলাম ধর্ম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় কথিত পীর শামীম ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করা হয়।
এতে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শামীমকে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
আব্দুর রহমান ওরফে শামীম দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় শামীমের কয়েকজন অনুসারীও আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত সাতজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে ভণ্ড পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
স্থানীয়দের দাবি, শামীম রেজা ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রচার করে আসছিলেন এবং নিজস্ব ব্যাখ্যায় ধর্মীয় বিধান তুলে ধরে অনুসারীদের বিভ্রান্ত করতেন। তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশ বাগানের দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন।
এছাড়াও, তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল থেকেই তার কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় শামীম ঈ তার কয়েকজন অনুসারীকে বেধড়ক মারধর করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। সে সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানিয়েছেন, শামীম রেজার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.