
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রোসাংগিরি ইউনিয়নের প্রাচীন এক মন্দির এক সময় বছরের প্রতিটি দিনে মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকত। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিত শত শত সনাতনী ধর্মপ্রাণ মানুষ। সুদৃশ্য এ মন্দির ঘিরে এলাকা ছিল প্রাণচঞ্চল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এখন সবই স্মৃতি।
প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মন্দির বর্তমানে জরাজীর্ণ। রাক্ষুসে হালদা নদী ক্রমেই মন্দিরের ভিত্তি ও প্রাঙ্গণকে ধ্বংস করছে। মন্দিরটি রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে যে স্মৃতি চিহ্ন রয়েছে, তাও শীঘ্রই নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
রোসাংগিরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শোয়েব আল ছালেহীন বলেন, ‘শতবর্ষী ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মন্দির সংরক্ষণ জরুরি। সরকারেরও সুদৃষ্টি কামনা করি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানিয়েছেন, ‘পুরাকীর্তি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।’
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, মন্দিরটি ব্রিটিশ শাসনামলের সময় গড়ে উঠেছিল। রোসাংগিরি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হালদা নদী। নদীর পূর্ব পাড়ে গ্রামটি এবং পাশেই শতবর্ষী এই নান্দনিক মন্দিরের অবস্থান। একসময় মন্দিরটি এলাকার দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা ছিল। প্রবেশদ্বারের দুই পাশে মোগল আমলীয় নকশা, ভেতরে দুটি কক্ষ, আর চারপাশে জাঁকজমকপূর্ণ প্রাঙ্গণ ছিল।
নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং মানুষের আনাগোনায় মন্দির প্রাঙ্গণ প্রাণচঞ্চল থাকলেও এখন ইট-সুরকি উঠে সেখানে জন্মেছে আগাছা ও পরগাছা। দরজা-জানালাও নেই। মন্দিরের স্থাপনাজুড়ে বসেছে বিষধর সাপ ও পোকামাকড়। পলেস্তারা খসে পড়ছে। নদীর ধারেই এখন মূল মন্দিরের অবশিষ্টাংশ দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু কুমার শীল বলেন, ‘মন্দিরটি ব্রিটিশ আমলের। ঐতিহ্যে ভরপুর এটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নদীভাঙন থেকে রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। অচিরেই পুরো মন্দির নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এই শতবর্ষী মন্দিরের বিলীনতা শুধু স্থাপত্যের ক্ষতি নয়, এটি স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও এক বড় ধাক্কা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.