
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় চিত্রা নদীর খনন কাজের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছেন। নদী খননের মাটি সরানো না হওয়ায় ধর্মগাতী ও ঘোপ দুর্গাপুর গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকৃত মাটি ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, গোয়ালঘর এবং টিউবওয়েলের ওপর ফেলে রাখায় চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে নড়াইলের গড়ের বাজার থেকে বাঘারপাড়া খাজুরা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার এলাকায় নদী পুনর্খনন কার্যক্রম শুরু হয়। খননের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদীর জল প্রবাহ বৃদ্ধি ও বন্যার ঝুঁকি কমানো। তবে খননকৃত মাটি নদীর তীরবর্তী লোকালয়ে ফেলে রাখায় নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, মাটি সরানোর জন্য প্রশাসন বহুবার নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নদীর তীরবর্তী বসতিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, খননের মাটি তাদের ঘরের চারপাশে এমনভাবে ফেলা হয়েছে যে বর্ষার সময় মাটি ধুয়ে জল ঢুকে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় আছে। অনেক বাড়িতে মাটির ঢিবি তৈরি হওয়ায় প্রতিদিনের চলাচলও কঠিন হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বাথরুম, গোয়ালঘর ও টিউবওয়েল পুরোপুরি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। অনেকের মতে, এটি শুধু জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে না, বরং তাদের বসতিপ্রাণকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ওপারে বড় মালিকানার জমিতে কোনো ধরনের মাটি ফেলা হয়নি, অথচ তাদের নিজস্ব জমিতে মাটি ফেলে বসতিকে কার্যত বন্দি জীবনযাপনের মতো পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে। ধর্মগাতী গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বাথরুম, গোয়ালঘর আর টিউবওয়েল সব মাটিতে ঢেকে গেছে। এখানে বসবাস করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’ একই গ্রামের সখী রানী যোগ করেন, ‘আমাদের মালিকানার জমিতে মাটি ফেলা হয়েছে। বর্ষার সময় আমরা কীভাবে এখানে থাকব, সেটা বোঝা যায় না।’
পাউবোর যশোর কার্যালয় জানায়, খননকৃত মাটি বিক্রির জন্য স্পট নিলাম আয়োজন করা হয়েছিল। তবে মাটির মান ভালো না হওয়ায় ঠিকাদাররা কম দাম দেয় এবং উপজেলা প্রশাসন বেশি রেট নির্ধারণ করায় নিলামে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। ফলে নিলাম স্থগিত হয়ে গেছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ মুখার্জী জানিয়েছেন, ‘উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত মাটি সরিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দিয়েছেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে মাটি বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’ তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের এই বিলম্বিত উদ্যোগের কারণে বর্ষা মৌসুমে তাদের বসতিগুলো সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নদী খননের মাটি ফেলার কারণে গ্রামের শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্ষতিকর। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন ও মাটি সরানোর অভাব তাদের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করেছে। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের বসতি ও জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.