
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুব জামায়াত নেতা পলাশসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে একজনকে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পলাশবাড়ী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে।
পুলিশ জানায়, পৌর এলাকার কালিবাড়ি বাজারে সরকারি সেডের একটি দোকান ঘরের মালিকানা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম পলাশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। এসময়, ওসি ও ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয় তার। পরে, পলাশ বাইরে গিয়ে সমর্থকদের ডেকে আনেন। পরে, ৮-১০ জনের একটি দল থানায় ঢুকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খানসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগ জানান, রাত ১০টার দিকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটিকে 'দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত' হিসেবে উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারী বলেন, রাতে যুব জামায়াতের নেতা পলাশের নেতৃত্বে ৮-১০ জন থানায় এসে এই হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দের একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের জেরে যুব জামায়াতের নেতা পলাশ থানায় এসে ওসিকে দোকানে তালা দিতে চাপ দেন এবং কথা না শুনলে নানা হুমকি দেন। এতে আপত্তি জানালে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয় এবং এক পর্যায়ে ওসির ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সরোয়ার আলম খান বলেন, রাতে কিছু লোক লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসে। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তারা চাপ সৃষ্টি করে এবং এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে তারা পুলিশকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পুলিশই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের ২ জন আহত হয়েছে। যুব জামায়াতের নেতা পলাশ বলেন, পুলিশই জামায়াত কর্মীদের মারধর করে উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.