
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একাব্বর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর চার নারীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ইকবাল পাশা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাব্বর আলী মারা যান।

নিহত একাব্বর আলী উপজেলার মধ্য বেলকা গ্রামের ঝাঁকুয়াপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত আকবর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাই মো. শাহ আলম (৪২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভাগি-শরিকদের সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে একাব্বর আলীর বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে লাঠি, বাঁশ ও কোদাল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক চাষাবাদ শুরু করে।
একাব্বর আলী এতে বাধা দিলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বাড়ির সামনে তাকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই শাহ আলমকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একাব্বর আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নুর আলম মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার নারী আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মধ্য বেলকা গ্রামের আব্দুল মতিন মেম্বারের স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা বেগম (৫০), মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী মোছাঃ স্বপ্না বেগম (৪৮), মৃত আজিজল হকের স্ত্রী মোছাঃ নুরজাহান (৬৫) এবং মিজানুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ রেনু বেগম (৩৮)।
সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ইকবাল পাশা বলেন, চার আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.