
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা কাজের কারণে ব্যবহৃত ইটের খোয়া এতটাই দুর্বল যে ছোট যানবাহনের চাকাতেই তা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে নামুড়ী হাট পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে যায়। এতে প্রতিদিন চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

জনদুর্ভোগ লাঘবে গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির ৯০০ মিটার অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। এ লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হলে মেসার্স সান ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৭৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৯০ টাকা, তবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ৭১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৫ টাকায়। গত ২৪ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৩১ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা একাধিকবার আপত্তি জানালেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর চাপের মুখে কয়েক দফা নিম্নমানের খোয়া সরানো হলেও পরে আবার একই মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের গোপন সখ্য রয়েছে। এ কারণেই একাধিক অভিযোগের পরও দ্রুত নিম্নমানের কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ তমিজ মিয়া বলেন, ‘যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রাবিশের মতো। ছোট গাড়ির চাকাতেই ধুলো হয়ে যাচ্ছে। এভাবে কাজ হলে অল্পদিনেই সড়ক আবার নষ্ট হবে। প্রতিবাদ করায় আমাদের উল্টো মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকৌশল অফিসের লোকজনের সামনেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হচ্ছে। বারবার বলেও কোনো সমাধান পাইনি। আমরা দ্রুত কার্যকর তদারকি ও তদন্ত চাই।’
গত রোববার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সে সময় সড়ক সংস্কার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের দুইজন কার্যসহকারী উপস্থিত থাকলেও তাদের সামনেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে নিম্নমানের খোয়া বোঝাই একটি ট্রাক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুস সাত্তার মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মশিউর রহমান বলেন, ‘কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। তদারকি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই কাজ চলছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ, লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলী বলেন, ‘অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.