
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিল ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এখন প্রায় চূড়ান্ত—কারা থাকছেন ভোটের মাঠে। নানা নাটকীয়তা, স্থগিতাদেশ ও বাতিলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা বৈধ প্রার্থীদের নিয়েই জমে উঠতে যাচ্ছে সিলেটের নির্বাচনী লড়াই। ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া।
এ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর সিলেটের ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে অর্ধশতাধিক মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়ে ৪৭টি মনোনয়নপত্র। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দিনে ৩৫টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন স্থগিত থাকা পাঁচটির মধ্যে চারটি বৈধতা পায়। ফলে দুই দিনে মোট ৩৯টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আরও দুই-একজন যুক্ত হতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা আগামী ২২ জানুয়ারির পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। দলীয় সমর্থন, জোট রাজনীতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন সিলেটে হতে যাচ্ছে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার একদিনের ব্যক্তিগত সফরে সিলেটে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন এবং তার দেখা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নই বিএনপির লক্ষ্য।
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। যারা বাতিল হয়েছেন, তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। সিলেটে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
আপিল প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট হবে। এরপরই শুরু হবে জোরালো প্রচার-প্রচারণা। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের মতো সিলেটেও নির্বাচনী লড়াই আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.