
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে নতুন করে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট আটটি অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় শনাক্ত হলো।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলাকালে এসব পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিআইডি জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত শহীদদের শনাক্ত করতে মোট ১১৪টি মরদেহ উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলে:—
মো. মাহিন মিয়া (৩০), পিতা গাজী মামুদ, মাতা জোসনা বেগম। বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ফুলপুর গ্রামে। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নিহত হন।
আসাদুল্লাহ (৩১), পিতা মৃত আব্দুল মালেক, মাতা আশেয়া বেগম। বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানা। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
পারভেজ বেপারী (২২), পিতা সবুজ বেপারী, মাতা শামসুন্নাহার। বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বারোহাটিয়া গ্রামে। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
রফিকুল ইসলাম (৫১), পিতা মৃত আব্দুল জব্বার শিকদার। বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার সাতকাছিনা গ্রামে। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
সোহেল রানা (৩৭), পিতা মৃত মো. লাল মিয়া, মাতা রাশেদা বেগম। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই।
রফিকুল ইসলাম (২৮), পিতা মৃত খোরশেদ আলম। বাড়ি ফেনী জেলা। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
ফয়সাল সরকার (২৫), পিতা শফিকুল ইসলাম। বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার কাচিমারা গ্রাম। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ২২ জুলাই।
কাবিল হাসান (৫৮), পিতা মৃত বুলু মিয়া, মাতা ছামেনা বেগম। বাড়ি ঢাকার মুগদা থানা এলাকায়। তিনি নিহত হন ২০২৪ সালের ২ আগস্ট।
সিআইডি আরও জানায়, মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.